বাতিল হলো কয়লাভিত্তিক ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প

বাতিল হলো কয়লাভিত্তিক ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প
বাতিল হলো কয়লাভিত্তিক ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প
ঝর্ণা রায়, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
:

ঢাকা: সময়মত নির্মাণকাজ শুরু করতে না পারায় দেশের বিভিন্ন জেলায় নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া দশ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করা হচ্ছে। এরইমধ্যে এই সিদ্ধান্তে অনুমতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, এ সব প্রকল্প বাতিল করলেও সরবরাহ বাড়াতে প্রভাব পড়বে না

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সুত্রে জানা গেছে, দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে ২০০৮ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে ১৭টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অধিকাংশই নির্ধারিত সময়ে কাজ করতে পারেনি। এরমধ্যে দশটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাতিল হওয়া কেন্দ্রগুলোর মধ্যে বেসরকারি খাতের তিনটি, সরকারি খাতের চারটি এবং জয়েন্ট ভেঞ্চারের প্রকল্প তিনটি

এগুলো হলো পটুয়াখালী ২৬৬০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, উত্তরবঙ্গ ১২০০ মেগাওয়াট সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট, মাওয়া ৫২২ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ঢাকা ২৮২ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, চট্টগ্রাম ২৮২ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র, খুলনা ৫৬৫ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মহেশখালী ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, মহেশখালী ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাংলাদেশ- সিঙ্গাপুর ৭০০ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত নির্মাণ প্রকল্প, সিপিজিসিবিএল - সুমিতোমো ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প।

জানা যায়, ২০০৮ সালে অনুমোদন পাওয়া এই বাতিল হওয়া কেন্দ্রগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ৯ হাজার ৩৪৬ মেগাওয়াট। গত ২১ জুন এসব প্রকল্প বাতিলের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (২৭ জুন) বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রি নসরুল হামিদ। তিনি জানান, এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র নানা কারনে সময়মত নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারেনি। তাছাড়া পরিবেশগত সুরক্ষার কথা চিন্তা করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কমিয়ে আনাও পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে চাই। আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে ত্রিশ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদনে বহুমুখি জ্বালানির ব্যবহার একটি স্বীকৃত পদ্ধতি এবং বিশ্ববাজারে এলএনজির মূল্য পরিস্থিতি অস্থিতিশীল থাকায় জনগণকে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে দেশে প্রাকৃতিক গ্যাস, এলএনজি, ফার্নেস ওয়েল ইত্যাদির পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। অন্যদিকে বৈশ্বিক পর্যায়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে আপত্তির বিষয়টিও দেখতে হবে। এ প্রেক্ষাপটে সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা যৌক্তিক পর্যায়ে পুনঃনির্ধারণ করা যুক্তিযুক্ত হবে।’

তিনি বলেন, ‘পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান পর্যালোচনা করা হবে। তা ছাড়া প্যারিস অ্যাগ্রিমেন্ট এ বাংলাদেশের স্বাক্ষর করা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভালনারেবল ফোরাম- সিভিএফ এর সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন আমাদের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে।