গোটা বাংলাদেশ এখন কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে আছে: রিজভী

গোটা বাংলাদেশ এখন কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে আছে: রিজভী
গোটা বাংলাদেশ এখন কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে আছে: রিজভী
প্রথম সময় প্রতিবেদক

গোটা বাংলাদেশ এখন কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে আছে: রিজভী

পুরো বাংলাদেশ এখন কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন উম্মুক্ত নয়। উম্মুক্ত কারাগার পরিণত হয়েছে। গোটা বাংলাদেশ এখন কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে আছে। যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে, দেশে গণতন্ত্র ফেরাতে চায়, বাকস্বাধীনতার ফেরাতে চায় তাদের জায়গা হচ্ছে কারাগারে। ভয় থেকেই শেখ হাসিনা তাদের গ্রেপ্তার করাচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের জ্যেষ্ঠ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের জামিন বাতিল করে জেল হাজতে পাঠানোর প্রতিবাদে এবং মুক্তির দাবিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে নয়াপল্টনস্হ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়ে কাকরাইল মোড় ঘুরে আবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

রিজভী বলেন যারা চুরি করে, সন্ত্রাসী করে এবং যারা মানুষ খুন করে তারা সবাই সরকারের লোক, মন্ত্রী এমপি বা দলের নেতাদের আত্মীয় স্বজন। দেশে সামাজিক অনাচার যারা করছে তারা ক্ষমতাসীন দলেরই লোক। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যারা কোটি কোটি ডলার চুরি করছে তাদের পুলিশ ধরতে পারছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরির তদন্তের ঘটনা ৭৮ বার পিছিয়েছে। সাগর রুনি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন ১০৯ বার পিছিয়েছে। অথচ ইশরাকের মতো তরুণ, যে বিদেশ থেকে লেখাপড়া করে তার বাবার মতো মানুষের সেবা করতে রাজনীতি করছে তাকে বিনা অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারানোর ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত। মিছিলের আওযাজ শুনলেই নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তান করান। আজকে আতঙ্ক থেকেই নিরব, টুকু, আবু আশফাকসহ নেতাকর্মীদের কারাগারে বন্দি করে রেখেছে।

‘ছোট ছোট বালুকনা দিয়ে যেমন মহাদেশ তৈরি হয়, তেমনি অচিরেই আমাদের আন্দোলন থেকে প্লাবন তৈরি হবে। এ সরকারকে বিদায় করে নেতাকর্মীদের মুক্ত করতে পারব ইনশাল্লাহ।’

সভাপতির বক্তব্যে আবদুস সালাম বলেন, অবৈধ রাষ্ট্রক্ষমতায় চিরকাল টিকে থাকার জন্য ৭ জানুয়ারী ডামি নির্বাচনের পর দখলদার আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠী এখন আরও বেশী মাত্রায় বেপরোয়া, হিংসাপরায়ণ ও কতৃর্ত্ববাদী হয়ে উঠেছে। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ দেশের মানুষের ওপর জুলুম—নির্যাতন চালাতে বেসামাল হয়ে উঠেছে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী। স্বাধীন বাংলাদেশকে এখন এরা বৃহৎ কারাগারে পরিণত করেছে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর সঞ্চালনায় এতে আরও উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনূস মৃধা, মোহাম্মদ মোহন, আবদুস সাত্তার, হাজী মনির হোসেন, নগর বিএনপির সদস্য সাব্বির আহমেদ আরেফ, মুন্সিগন্জ জেলা বিএনপির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মাশরুর হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দল দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, সাধারণ সম্পাদক পাপ্পা সিকদার, শ্রমিক দল দক্ষিণের আহবায়ক সূমন ভূঁইয়া, সদস্য সচিব বদরুল আলম সবুজ, ছাত্রদল দক্ষিণের আহবায়ক পাভেল সিকদার, সদস্য সচিব নিয়াজ মাহমুদ নিলয়, যুবদল নেতা মুকিতুল আহসান রন্জু, ওমর ফারুক মুন্না, কাজী জুয়েল, নগর বিএনপির সদস্য শহীদুল ইসলাম বাবুল, সাইফুল্লাহ খালিদ রাজনসহ বিএনপি ও অংগসংগঠনের নেতৃবৃন্দ