বাংলাদেশে প্রতিবন্ধকতা জয় করে উচ্চশিক্ষিত হতে চায় সাহসী রুকসানা

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ১৬. জুন. ২০১৯ | রবিবার

বাংলাদেশে  প্রতিবন্ধকতা জয় করে উচ্চশিক্ষিত হতে চায় সাহসী রুকসানা

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

বাংলাদেশের স্বপ্ন পুরনেসমানের অবহেলিতরা অনেক এগিয়ে   প্রতিবন্ধকতা জয়ী স্বপ্ন সাহসী রুকসানা আক্তার। সে কথা বলতে পারে না, লিখে নিজের চাওয়া পাওয়ার কথা জানায় মানুষকে। খুবই মেধাবী। ক্লাসে ব্ল্যাক বোর্ডে শিক্ষকদের লেখা দেখে মুখস্ত করে ফেলে। উচ্চ শিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলছে এই প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী  জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার চর পলিশার জাহানার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পাস করেছে রুকসানা আক্তার।

বাবা ওসমান গনি রাস্তার ধারে চা বিক্রি করেন। অশিক্ষিত ও দরিদ্র বাবা ওসমান কীভাবে মেয়েকে কলেজে ভর্তি করাতে হবে তাও জানে না। ভর্তির ফি’র টাকায় বা কোথায় পাবে। মেয়েকে কলেজে ভর্তি করানোর আশায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি।

তাহলে কি উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার রুকসানার স্বপ্ন ভেঙে যাবে। প্রতিবন্ধী জীবন থেকে মুক্তি পেতে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সমাজে আলো ছড়াতে চান রুকসানা।

প্রতিবন্ধী বোবা রুকসানা আক্তারের বাড়ি মেলান্দহ উপজেলার চরবানী পাকুরিয়া ইউনিয়নের চর পলিশা উত্তরপাড়া গ্রামে। বাবা ওসমান গনি চর পলিশা বাজারের সামনে রাস্তার ধারে চা, পুরি, সিঙ্গারা বিক্রি করেন। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সে বড়। ছোট ভাই মঞ্জিল হোসাইনও একই সাথে এসএসসি পাস করেছে। আরেক বোন মনিকা আক্তার ৭ম শ্রেণিতে পড়ছে।

প্রথম সময় ডেস্ক:

 

 

 

রুকসানার মা শাহেদা বেগম (৪৫) কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, বাবা আমাদের টাকা নেই, মেয়ের আশা পূরণ করবো কীভাবে। ৫ বছর বয়সে গ্রামের মেয়েরা স্কুলে যায় দেখে রুকসানা গ্রামের স্কুল চর পলিশা উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাদের পিছু পিছু যেত। বেশ কয়েকদিন যাওয়ার পর ভাবি মেয়েটা স্কুলে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রী-শিক্ষকদের বিরক্ত করছে। আমি একদিন স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের বলি, আমার মেয়ে প্রতিবন্ধী কিছু বুঝে না আপনাদের স্কুলে এসে বিরক্ত করছে। তখন এক স্যার বলেন রুকসানা খুব মেধাবী। মনযোগ সহকারে প্রতিটি ক্লাস করে। বাধা দিয়েন না, আসতে দেন। আগ্রহ দেখে স্যাররা প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করে নেন রুকসানাকে।

শাহেদা বেগম বলেন, বই খাতা কলম কিছুই কিনে দিতে পারি নাই মেয়েকে। ক্লাসের ব্ল্যাকবোর্ডে দেখে পড়া মুখস্ত করে প্রথম শ্রেণি পাশ করে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উঠে। তারপর রুকসানার পড়ালেখায় স্যারদের সহযোগিতায় ৫ম শ্রেণি পাস করে জাহানারা লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। এসএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত প্রাইভেট মাস্টার দিতে পারিনি মেয়েটিকে। প্রাইভেট পড়াবো টাকা পাবো কোথায়?

তিনি আরো বলেন, স্কুল থেকে এসে বাড়ির সব কাজ সেরে নেয় ঝটপটে। আমাকে কিছু করতে দেয় না। আশপাশের লোকজন বিয়ের কথা বললে রেগে খাতায় লিখে জানায়, আগে লেখাপড়া শেষ করবো তারপর বিয়ে। ৫ বছরের মধ্যে বিয়ের কথা বলবে না।

রুকসানার বাবা ওসমান গনি বলেন, আমি ফুটপাতে দোকান করে তিন ছেলেমেয়ে লেখাপড়া করাইতাছি। রুকসানা এসএসসি পাস করেছে। ওর কলেজে ভর্তি ও কলেজে পড়ালেখার খরচের টাকা কোথায় পাবো? দুশ্চিন্তায় ঘুম আসে না মেয়ের স্বপ্ন পূরণ করবো কীভাবে?

প্রতিবন্ধী মেয়ের স্বপ্ন পূরণে সমাজের বিত্তশালীদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন অসহায় এই বাবা।

জাহানার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম মোস্তফা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, রুকসানা খুবই মেধাবী। কথা বলতে পারে না। ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ক্লাসে খুবই মনযোগী হয়ে ক্লাস করতো। ক্লাসে ব্ল্যাকবোর্ডে শিক্ষকদের লেখা দেখে পড়া মুখস্ত করতো। খাতায় লিখে তা উপস্থাপন করতো। আমরাও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রুকসানার প্রতি সহযোগিতা সহমর্মিতা দেখাতাম। কলেজে ভর্তি হতে পারলে ভালো করবে। রুকসানা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার স্বপ্নে এগিয়ে যাক সেই সাফল্য কামনা করছি।




Archives