৮৫ বছরের তোবজুল ডালি বুনিয়ে বেছি কিনে খায় সংসার চালায়।

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : 13. January. 2020 | Monday

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

শাহ্ আলমঃ
৮৫ বছর বয়ষ তোবজুলের ডালি বুনিয়ে সংসার চলে বয়সের ভারে কোন কাজ
করতে না পারায় শুধু ডালি বুনিয়ে তা হাটে বিক্রী করে কোন রকমে স্বামী-স্ত্রীর সংসার চালায়।জমি জমা বলতে বসত বাড়িতে মাত্র
৬কাঠা জমি।তাও আবার ৫ ছেলের মধ্যে ভাগ করে দেয়া আছে।আমি ও আমার স্ত্রী প্লাষ্টিকের তৈরী ছোট একটি খুপড়ী ঘরে বাস করি।কথাগুলো বললেন ৮৫ বছর বয়স্ক তোবজুল হক।তোবজুল হক
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের রানীনগর ঘোনটোলা গ্রামের মৃত রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে।গত কয়েকদিন আগে সরজমিনে প্রতিবেদকের সাথে তার কথা হয়।অসহায় জীবনের বর্ণনা দিয়ে কান্না কান্না কণ্ঠে তিনি বলেন আগে ঘরামুর কাজ করতাম(খড়ের ঘর মেরামতকারী)দিনে প্রায় ২৫০/৩০০ টাকা দিন উপার্জন হতো।৫জন ছেলে ও ৩মেয়ে সংসার ভালোই চলতো। কিন্তু গত ১২বছর থেকে বয়সের কারণে ঘরামুর কাজ আর করতে পারি না।তাই কেউ ডাকেও না।টাকাও নেই।তাই ১শ বা ১২৫টাকা দিয়ে একটি মাকলা জাতীয় বাঁশ কিনে আমার সেই খুপড়ী ঘরের পাশেই বসে বসে ডালি বুনাই।একটি বাঁশে ছোট
ছোট৪/৫টি ডালি হয়। বৃহ্স্পতিবার ও রবিবার সে ডালিগুলি মনাকষা বাজারে ৫০/৬০টাকা দরে বিক্রী করি। খরচ বাদে গড়ে ৫০ টাকা দিন উপার্জন করতে পারি।এভাবেই দীর্ঘ দিন যাবত জীবিকা নির্বাহ করছি। সামান্য যা জমি ছিল তার বিক্রী করে
মেয়ে ৩টির বিয়ে দিয়েছি। ৫জন ছেলে বিয়ের পরপরই ভিন্ন আছে। এটাই আমাদের স্বামী স্ত্রীর জীবন কাহিনী।তিনি আরো বলেন প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারনে বাঁশ কিনে ডালি বুনাতে
না পারলে কোন কোন দিন অনাহারেই থাকতে হয়।কিছু দিন আগে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড পেয়েছি।সেখান থেকে প্রতিমাসে ৫শ টাকা ভাতা পাই।তা দিয়ে পরনের কাপড় ও ঔষধ কিনতে হয়।ছেলেরাও
খুব ভাল নেই।তারা কামলা খেটে কোন রকমে সংসার চালায়।তারপর যতটুকু পারে সহযোগিতা করে।সরকারী সহযোগিতা বলতে বয়স্ক ভাতার কার্ড আর কিছু পাইনি।এ বছরে একটি কম্বল পর্যন্ত
পাইনি। মেম্বারকে কয়েকবার বলেছি।শুধু দেখবোই বলেছেন।শেষ বয়সে আমার চাওয়া পাওয়া কিছু নেই। শুধু একটি ঘর করে পেলে একটু আরামে বাস করতাম।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৭৭ বার




Archives