ঢাবি ছাত্রীর ধর্ষক মজনু আটক ভাঙা দুই দাঁতই ছিল বড় প্রমান

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : 08. January. 2020 | Wednesday

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

প্রথম সময় ডেস্ক:
ঢাকা কুর্মিটোলায়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. মজনু নামে যে ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব তাকে ধরতে সামনের ভাঙা দাঁতই ক্লু হিসেবে কাজ করেছে।
বুধবার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাসেম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘মজনু ১২ বছর আগে ট্রেন থেকে পড়ে দাঁত ভেঙে ফেলেছিল। তদন্তের ক্ষেত্রে তার সেই ভাঙা দাঁতটিই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।’

মামলাটি ক্লুলেস ছিল উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা ভিকটিমের বর্ণনার সূত্র ধরে কাজগুলো করেছি। ঘটনার পর মজনু ভিকটিমের মোবাইলটি অরুনা বিশ্বাস নামে এক নারীর কাছে বিক্রি করে দেয় মজনু। এরপর বিমানবন্দর রেলস্টেশন, নরসিংদী রেলস্টেশন এবং বনানী রেলস্টেশনে আত্মগোপন করে থাকে সে।

এরই মধ্যে অরুনা নামের ওই নারীর কাছ থেকে ভিকটিমের মোবাইলটি খায়রুল ইসলাম নামে এক রিকশাচালক ক্রয় করে। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে র‌্যাব প্রথমে মঙ্গলবার রাজধানীর কুরাতলী থেকে খায়রুল নামে ওই রিকশাচালককে ধরে। তার কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। সেই সূত্র ধরে মোবাইলটির বিক্রেতা অরুনাকেও ধরে র‌্যাব। পরবর্তীতে রাজধানীর শেওড়া রেলক্রসিং থেকে মজনুকে গ্রেফতার করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদে সে তার অপরাধের কথা স্বীকার করে।

সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, মো. মজনু পেশায় দিনমজুর ও হকার। তবে এই পেশার আড়ালে সে চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধেও জড়িত ছিল। ধর্ষণের মতো অপকর্মও এটাই প্রথম নয়। মজনু মূলত একজন সিরিয়াল রেপিস্ট। সে আগেও এমন অপকর্ম করেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।

সারওয়ার বিন কাশেম জানান, মজনুর গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা গ্রামে। ১০ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় আসে সে। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সে অন্যান্য অপরাধমূলক কাজের পাশাপাশি সিরিয়াল রেপের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

মজনুকে গ্রেফতারের পর তার ছবি তুলে ধর্ষণের শিকার তরুণীকে দেখায় র‌্যাব। সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, আমরা মেয়েটিকে ছবি দেখিয়ে জিজ্ঞেস করি এই সেই অপরাধী কিনা। জবাবে মেয়েটি জানায় হ্যাঁ, এই সে।

তিনি আরো বলেন, তারপরও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমরা মেয়েটিকে ছবিটি ভালো করে দেখতে বলি। তখন মেয়েটি আমাদের বলে, সব চেহারা ভুলে গেলেও ওই চেহারা আমি কোনদিনই ভুলবো না।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৯৬ বার




Archives