বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে রাজার হালে আছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : 04. December. 2019 | Wednesday

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

অনলাইন ডেস্ক:

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে রাজার হালে আছেন বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া কারাগারে নিয়মিত সুবিধার বাইরেও সুবিধা ভোগ করছেন। তার ব্যথার সমস্যা পুরনো। আগেও তাকে মাঝে-মধ্যে হুইল চেয়ারে বসতে হয়েছে।’ বুধবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘পৃথিবীতে শুনিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামির জন্য আবার কাজের বুয়া থাকে। মানুষ এমনি কাজের বুয়া পায় না, আর খালেদা জিয়ার জন্য স্বেচ্ছায় একজন কারাবরণ করছে, খালেদা জিয়ার সেবা করার জন্য। এই বাড়তি সুবিধা পর্যন্ত তাকে দেয়া হচ্ছে। সরকারের কোনো প্রতিহিংসা থাকলে তিনি এই সুবিধা পেতেন না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো দেশে এই দৃষ্টান্ত কেউ দেখাতে পারবে না যে, কোনো সাজাপ্রাপ্ত আসামি তার সেবার জন্য কাজের বুয়া রাখতে পারেন। কিন্তু খালেদা জিয়া সেটা পাচ্ছেন।’ খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালে বিএনপি যখন সরকারে আসে, তখন আমেরিকায় খালেদা জিয়ার নিক্যাপ রিপ্লেস করা হয়, অপারেশন হয়। পরবর্তী সময়ে আবার সৌদি আরবে করা হয়। তিনি যখন বিদেশে শপিংমলে শপিং করতেন, হুইল চেয়ারে বসে শপিং করতেন। সেই চেয়ার তার দলের নেতা মোসাদ্দেক আলী ফালু ঠেলতেন আর তিনি শপিং করতেন। এমনকি হজের সময়ও ফালুকে খালেদা জিয়ার হুইল চেয়ার ঠেলতে দেখা গেছে। কাজেই বিএনপি চেয়ারপারসনের হুইল চেয়ারে বসা তো নতুন কিছু না। সেটা বহু যুগ ধরে জাতি দেখে আসছে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘খুনি, আগুন সন্ত্রাসী, গ্রেনেড হামলাকারী ও এতিমের টাকা লুটকারীরা যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘দেশবাসীর প্রতি আমার আহ্বান আগুন সন্ত্রাসী, গ্রেনেড হামলাকারী, এতিমের অর্থ আত্মসাতকারী, সুদখোর ও ঘুষখোররা যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখন দেশ এগিয়ে যায় ও মর্যাদা অর্জন করে। আর জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী খালেদা জিয়ার মতো অন্যান্যের আমলে দেশের কোনো উন্নয়ন হয়নি। বরং বিএনপি যখন ক্ষমতায় এসেছে, তখন দেশ সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি ও দুর্ভিক্ষের দিকে এগিয়ে গেছে।’ খালেদা জিয়াকে সন্ত্রাসবাদের গডফাদার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে নিরীহ মানুষদের হত্যা করার চেয়ে বড় কোনো সন্ত্রাস নেই। খালেদা জিয়ার নির্দেশে পরিচালিত আগুন সন্ত্রাসে পুলিশ সদস্যসহ প্রায় ৫শ লোক নিহত এবং তিন হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।’

জাতীয় কমিটির সভায় দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিত, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, কাজী জাফরউল্যাহ, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খানসহ জাতীয় কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ৮১ জন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্য, ৭৮ জন সাংগঠনিক জেলা থেকে মনোনীত এবং বাকি ২১ জন দলের সভাপতি মনোনীত সমন্বয়ের ১৮০ সদস্যের জাতীয় কমিটি গঠন করে আওয়ামী লীগ

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৮৫ বার




Archives