প্যারোলে মুক্তি নয় শপত ও নয়।।

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ১২. এপ্রিল. ২০১৯ | শুক্রবার

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্যারোলে মুক্তি নিয়ে দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়া। এছাড়া শপথ নিয়ে সংসদে যাচ্ছেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির ছয় জন সংসদ সদস্য। —এমন গুঞ্জন ছিল রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে।  কিন্তু সর্বশেষ খবর অনুযায়ী প্যারোলে মুক্তির ব্যাপারে মোটেই রাজি নন খালেদা জিয়া।  আর দলের চেয়ারপারসন নিঃশর্ত মুক্তি না পেলে নির্বাচিত ছয়জন প্রার্থীর শপথ নেওয়াও হচ্ছে না।

গত মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে হঠাৎ গুঞ্জন ওঠে, প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন খালেদা জিয়া।  চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন সৌদি আরব।  ঈদের আগেই শেষ হবে সব প্রক্রিয়া। এরই অংশ হিসেবে কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে তাকে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এই গুঞ্জনের মধ্যেই ৬ এপ্রিল জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে একটি নৌ-থানা উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে আবেদন করলে খালেদা জিয়ার প্যারোলের বিষয়টি বিবেচনা করবে সরকার

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনার আগ্রহ দেখান। খালেদা জিয়ার জীবনরক্ষায় প্যারোলের বিষয়টি ভেবে দেখার পক্ষে মত দেন অনেকেই।

ওই সময় সারাবাংলার সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘হার (খালেদা জিয়া) লাইফ ইজ ইমপরট্যান্ট ফর আস। সুতরাং তার প্যারোলের প্রসঙ্গ যেহেতু সামনে আনা হয়েছে, সেহেতু আইনজীবীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করব।  স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। তারপর দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দল ও নেত্রীর প্রতি ‘ডেডিকেটেড’ নেতাদের এমন মনোভাবের বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা সম্প্রতি খালেদা জিয়াকে জানান। প্যারোলের ব্যাপারে স্বজনরা তাকে রাজি করানোর চেষ্টাও করেন। কিন্তু ‘আপসহীন’ নেত্রী হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়া তার স্বজনদের মাধ্যমে সাফ জানিয়ে দেন, প্যারোলে মুক্তি তিনি চান না। জানা গেছে, খালেদা জিয়ার এই বার্তা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাছে পৌঁছানোর পর প্যারোল নিয়ে আলোচনা হয়নি দলীয় ফোরামে। ডাকা হয়নি স্থায়ী কমিটির বৈঠক। বরং দলের চেয়াপারসনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে নতুন কর্মসূচি দেওয়ার কথা ভাবছে বিএনপি।

‘খালেদা জিয়ার প্যারোল নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা হয়েছে কি না?’— এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান শুক্রবার (১২ এপ্রিল) সারাবাংলাকে বলেন, ‘ম্যাডাম প্যারোল চান না।  জামিন পাওয়া তার ন্যায্য অধিকার। আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই। সুতরাং প্যারোল নিয়ে আলোচনার জন্য স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকার প্রশ্নই আসে না

এদিকে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ‘গ্রিন সিগন্যালের’ অপেক্ষায় থাকা বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বগুড়া-৪ আসন থেকে নির্বাচিত মোশাররফ হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচিত মো. আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত মো. হারুন অর রশীদ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত জাহিদুর রহমান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া’র শপথ গ্রহণ ও সংসদে যোগ দেওয়ার বিষয়টিও ঝুলে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

দল ও জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খান সংসদে গেলেও বিএনপি থেকে নির্বাচিত ছয়জন প্রার্থী এই পথ অবলম্বন করবেন না বলেই বিশ্বাস দলটির নীতি-নির্ধারকদের। যদি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া বাকি ৫ জন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ব্যাপারে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন ফোরামে।

তবে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত না নিলে তাদের কেউ-ই শপথ নেবেন না বলেও বিএনপি সূত্র জানায়। সঙ্গত কারণেই বিএনপি থেকে নির্বাচিত ছয় প্রার্থীর আসন ৩০ এপ্রিলের পর শূন্য হয়ে যাবে। যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে স্পিকারকে চিঠি না দিলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে ওইসব আসনে উপ-নির্বাচন করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।

‘বিএনপি থেকে বিজয়ী ছয় প্রার্থীর শপথের ব্যাপারে দল নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কি না?’— এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার বেগম খালেদা জিয়ার।’ তিনি মুক্ত না হলে কেউ শপথ নেবেন না বলেও তিনি জানান।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২০ বার







Archives