রবিবার , ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং , ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ




বড়দের ভুলের কারনে ছোটদের ভোগান্তি: ৪ জেলায় ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষা একই দিনে ২ বার পরিক্ষা।

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ০৩. ফেব্রুয়ারি. ২০১৯ | রবিবার

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

প্রয়হম সময় ডেস্কঃ

 

প্রশ্নপত্র বিভ্রাটে একইদিনে দুবার এসএসসি পরীক্ষায় বসতে হয়েছে সাতক্ষীরা ও শেরপুরের কয়েকটি কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের। শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনের বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে গিয়ে এই অভিজ্ঞতার মুখোমখি হতে হয় তাদের।

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার চাম্পাফুল আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠ ও শেরপুরের শ্রীবরদীতে কয়েকটি কেন্দ্র এবং মুন্সীগঞ্জ ও মাদারীপুরের বিভিন্ন কেন্দ্র ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসলে ২০১৯ সালের নতুন প্রশ্নে আবারও তাদের পরীক্ষা দিতে হয়।

সাতক্ষীরা: চাম্পাফুল আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠ কেন্দ্রে ৪৪০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৪৮ জনকে ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। পরীক্ষা শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে বিষয়টি নজরে আসলে আগের পরীক্ষা বন্ধ করে নতুন প্রশ্নপত্রে আবারও পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় বরখাস্ত করা হয় কেন্দ্রসচিব সুখলাল বাইনকে।

এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহীন বলেন, ‘২০১৯ সালের প্রশ্নপত্র বণ্টনের প্রায় তিনঘণ্টা পর বিষয়টি সবার নজরে আসে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি নিয়ে দুপুর একটা থেকে নতুন বছরের প্রশ্নপত্রে আবারও পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ‘এ ঘটনার জন্য কেন্দ্রসচিব সুখলাল বাইন সরাসরি দায়ী। তাকে তখনি বরখাস্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নতুন কেন্দ্রসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন সহকারী কেন্দ্রসচিব আরিফুল ইসলাম।’ এছাড়া প্রশ্নপত্র ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়ার কাজে জড়িত আরও ১৫ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, ‘বোর্ডের কাছে উত্তরপত্র পৌঁছালে তা মূল্যায়ন করা হবে। তিনি বলেন এ ঘটনায় পরিক্ষার্থীদের ভীত হবার কিছু নেই।’ যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন বলেও জানান তিনি।

শেরপুর: অপরদিকে একই ঘটনা ঘটেছে শেরপুরের শ্রীবরদীর কয়েকটি কেন্দ্রে। প্রশ্নপত্র সরবরাহের একঘণ্টা পর বিষয়টি বুঝতে পেরে আবারও পরীক্ষা নেওয়া হয় নতুন প্রশ্নপত্রে।

অভিযোগ উঠেছে, প্রশ্নপত্র সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলায় এই ঘটনা ঘটেছে।

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার টেংগরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু রায়হান জানান, ‘ওই কেন্দ্রে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থীর হাতে ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষা শুরু হওয়ার ১০-১৫ মিনিট পর প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করে ২০১৯ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে।’

এ ব্যাপারে কেন্দ্রসচিব আবুল খায়ের বলেন, ‘কয়েকটি কক্ষে ভুলবশত ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছিল। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেজুতি ধরের পরামর্শে প্রশ্নপত্র ফটোকপি করে পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হয়। হয়তো ভুলবশত এসব প্রশপত্র ২০১৯ সালের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্যাকেটে ভরা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর দ্রুত ২০১৯ সালের প্রশ্নপত্র ফটোকটি করে পরীক্ষার্থীদের হাতে দেওয়া হয়েছে।’

শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেঁজুতি ধর এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ওইসব প্রশ্নপত্র নিয়ে ফটোকপি করে আবার পরীক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এতে সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও তেমন সমস্যা হয়নি।

মুন্সীগঞ্জ: একই ঘটনা ঘটেছে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার এভিজেএম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে। সেখানে কে কে গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউশনের ৭৯ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থীকে ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা শেষে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জেলা প্রশাসকের বাসভবন ঘেরাও করেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ এইচ এম রকিব হায়দার ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের শান্ত করেন এবং বিষয়টি বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সায়েলা ফারজানা বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা হয়েছে। আমরা বোর্ডে কথা বলেছি। বোর্ড বলেছে, এমন সমস্যা হতে পারে। যেহেতু পরীক্ষায় দুই ধরনের প্রশ্ন থাকে, এই ধরনের সমস্যা সারা বাংলাদেশে টুকটাক হয়েছে। এ বিষয়ে বোর্ড ব্যবস্থা নেবে। তবে খাতাগুলো আলাদা করে পাঠিয়ে দিতে বলা হয়েছে।’

মাদারীপুর: মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার খাসেরহাট সৈয়দ আবুল হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ার ঘটনায় বিকেলে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন পরীক্ষার্থীরা।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে এই সমস্যার প্রতিবাদ করলেও পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে কোনো প্রকার সমাধান করা হয়নি। পরে পরীক্ষা শেষে সকল শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে কালকিনি-খাসেরহাট সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

পরে প্রায় দুইঘণ্টা পরে জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলামের আশ্বাসে সড়কের অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা

 

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩০ বার







Archives

Translate »