রবিবার , ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং , ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ




নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে প্রধানমন্ত্রী।

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ০২. ফেব্রুয়ারি. ২০১৯ | শনিবার

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

প্রথম সময় ডেস্ক:

 

বাংলাদেশকে  নতুন প্রজন্মর কাছে  তুলে ধরতে বছরে শুরুতে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও বইমেলায় একবিকাল দিবটিশুক্রবার বিকেলে বাংলা একাডেমিতে মাসব্যাপী অমর একুশ গ্রন্থমেলা উদ্বোধন করে তিনি এ আহ্বান জানান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বাঙালির আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। কতটা ত্যাগ আর সংগ্রামের পথ পাড়ি দিলে একটি জাতি তার কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌঁছতে পারে তা তাদের জানাতে হবে। কত ত্যাগ-তিতীক্ষা আর রক্তপাতের মধ্যদিয়ে আমরা লক্ষ্যে পৌঁছেছি, বাঙালির স্বাধীনতার ইতিহাস তার অনন্য উদাহরণ।’

তিনি বলেন, ‘বাঙালির প্রাণের মেলা বইমেলা। বইমেলায় গিয়ে বই কিনে নতুন বইয়ের ওপর হাত দেয়ার আনন্দই আলাদা। তবে, বর্তমান যুগ ডিজিটালের। তাই অন্যান্য লাইব্রেরির পাশাপাশি ডিজিটাল লাইব্রেরির প্রয়োজন রয়েছে। এর মাধ্যমে সহজে বই মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া যায়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বইমেলা কেবল বই কেনা-বেচার জন্য নয়, বইমেলা বাঙালির প্রাণের মেলা।’

তিনি বলেন, ‘বাঙালির ইতিহাস ত্যাগের ইতিহাস। আর সেটিই আমাদের অর্জন। ১৯৪৮ সালে ভাষার জন্য আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলনের পথ ধরে আমাদের স্বাধীকার আদায়। ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা করার উদ্যোগ আমাদের সরকারের আমলেই নেয়া হয়। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দেয় ইউনেস্কো।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলা ভাষার প্রতি মর্যাদা দেখিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেন। আমিও যতবার জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছি, তা বাংলাতেই দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে বই তুলে দিয়েছে। আমরা বৃত্তি দেই, উপবৃত্তি দেই। শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে মানুষ যাতে দারিদ্র্যমুক্ত হতে পারে, তার জন্য আমরা কাজ করছি।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণ ও দর্শনার্থীর অসুবিধার জন্য না আসতে পারলেও ফেব্রুয়ারি এলে মনটা আমার বইমেলাতেই পড়ে থাকে।’

এদিন, রেকর্ড ১৬ বারের মতো অমর একুশে গ্রন্থমেলা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে তিনি মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন।

গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ।

অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলা ভাষার প্রখ্যাত কবি শঙ্খঘোষ এবং মিশরের লেখক, গবেষক ও সাংবাদিক মোহসেন আল-আরিশি।

শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিশিষ্ট চারজনের হাতে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯ তুলে দেন। তারা হলেন, কাজী রোজি (কবিতা), মোহিত কামাল (সাহিত্য), সৈয়দ মো. শাহেদ (প্রবন্ধ ও গবেষণা) এবং আফসান চৌধুরী (মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা)।

এবারের বইমেলায় ৫২৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এছাড়া ১৮০টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০৪টি প্রতিষ্ঠানের ১৫০টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৯৫টি প্রতিষ্ঠানের ৬২০টি ইউনিটসহ মোট ৪৯৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৭০টি ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলা একাডেমিসহ ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ২৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে ১৮০টি লিটলম্যাগকে ১৫৫টি স্টল দেয়া হয়েছে। ২৫টি স্টলে দুটি করে লিটল ম্যাগাজিনকে স্থান দেয়া হয়েছে। স্টল পেয়েছে অন্য ১৩০টি প্রতিষ্ঠান।

প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত গ্রন্থমেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ছুটির দিনে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে মেলা। ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলবে গ্রন্থমেলা।

 

 

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২২ বার







Archives

Translate »