বঙ্গাব্দ বা বাংলা সনের প্রবর্তন

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ০৫. এপ্রিল. ২০১৮ | বৃহস্পতিবার

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

ইরানী বিশ্বাস
সম্পাদক

প্রাচীন ইতিহাস থেকে জানা যায়, মিসরীয় সভ্যতা সর্বপ্রথম সৌর ক্যালেন্ডার উদ্ভাবন করে। গ্রীকদের কাছ থেকে রোমানরা প্রথম এই পঞ্জিকা বা ক্যালেন্ডার লাভ করে। এই সময় গণনা এবং দিন তারিখের হিসাব রাখার জন্য বিশ্বের নানা দেশে, নানা জাতির মধ্যে বিভিন্ন সাল বা বর্ষ গণনা পদ্ধতির প্রচলন রয়েছে। আন্তর্জাাতিক ভাবে সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত হয়ে আসছে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার, যা আমাদের দেশে ইংরেজি ক্যালেন্ডার নামে পরিচিত। ১৭৫৭ সালে পলাশী যুদ্ধের পর বৃটিশ শাসনকালে ইংরেজরা এ দেশে ইংরেজি ক্যালেন্ডারের প্রচলন শুরু করে। দীর্ঘ প্রায় দু’শ বছর শাসনের পর তারা এদেশ ছেড়ে চলে গেলও এ দেশে ইংরেজি সনের ব্যবহার এখনও রয়ে গেছে। বর্ষপঞ্জি বা দিনপঞ্জির ক্ষেত্রে সন বা সাল, তারিখ, বার, মাস, বছর ইত্যাদি নিত্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
বাংলা সন বাঙালির একটি নিজস্ব সন বা সাল। যতই দিন আসছে বাংলা সনের গৌরব ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলা সন বা তারিখ বঙ্গাব্দ হিসেবে গণনা করা হয় কিংবা পরবর্তী কোন সময়ে গণনা আরম্ভ করার প্রারম্ভিক সময় ৫৯৩-৯৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে, অর্থাৎ ঐ বছরকে বাংলা সনের আরম্ভ বর্ষ বা ভিত্তি বর্ষ বলা চলে। তবে বাংলা সনের প্রবর্তক বা প্রচলন সম্পর্কে নানা মনীষীর নানা রকম ব্যাখ্যা রয়েছে। কারও কারও মতানুযায়ী রাজা, ভুস্বামী কিংবা ধনাঢ্য মহাজন গোষ্ঠী বাংলা সন প্রবর্তন করেছেন। বেশ কয়েকজন পন্ডিতের মতে গৌড়রাজা শশাঙ্ক ৫৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ এপ্রিল গৌড় বঙ্গে স্বাধীন ভাবে রাজত্ব আরম্ভ করেন। অর্থাৎ তার রাজত্বকালেই এই অব্দের গণনা শুরু হয়। আবার অনেক পন্ডিত মনে করেন বাংলা সনের প্রচলন ও উদ্ভাবন হয় ১৫৫৬-১৬০৫ শতকে মুঘল স¤্রাট আকবরের রাজত্বকালে তারই নির্দেশে। তাই আকবরকে বাংলা সনের প্রবর্তক বলা হয়।
বলা হয়ে থাকে, মুঘল আমলে ফসল দিয়ে কৃষকের খাজনা পরিশোধ করতে হতো। যে চন্দ্র মাসে রাজস্ব নির্ধারণ করা হতো, ঋতু পরিবর্তনের কারণে সেই চন্দ্র মাসে সবসময় রাজস্ব আদায় সম্ভব হতো না। কেননা ঋতুটি সরে যাওয়ার কারণে দেখা যেত ঐসময় কৃষকের কোন ফসল ঘরে ওঠেনি। তখন কৃষকের খাজনা আদায় করা কঠিন হয়ে উঠত। ফসল দিয়ে খাজনা পরিশোধ করার রেওয়াজ ছিল বলে এটা ছিল বড় রকমের একটা সমস্যা।
কৃষকরা যখন শস্য কেটে ঘরে তোলার আয়োজন করতেন, সে সময় রাজ র্কচারীরা খাজনা আদায় করে নিতেন। কিন্তু মাঝে মধ্যে এই খাজনা আদায় করতে রাজ কর্মচারীদের বেশ কিছুটা সমস্যায়ও পড়তে হত। যেহেতু হিজরি সাল সৌর বছর থেকে এগারো দিন এগিয়ে যায়, তাই অনেক সময় দেখা যেত কৃষকরা সে সময় শস্য কেটে ঘরে তুলতে পারেনি। আকবরের এই নতুন সন অনুসারে তখন এ অঞ্চলে ফসল তোলা ও খাজনা আদায়ের নিয়ম শুরু হয়। ধারণা করা হয় জামিতে ফসল বোনা এবং ফসল তোলার সাথে বাংলা সনের উদ্ভব হয়েছে কৃষকের ফসল তোলাকে কেন্দ্র করে। আঠারো শতকের দ্বিতীয় ভাগে ইংরেজি সন চালু হওয়া ফসলী সন ‘বাংলা সন’ নামে পরিচিতি লাভ করে। উনিশ শতকে এর নাম হয় ‘বঙ্গাব্দ’।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬৩১ বার




Archives