আমাদের জনক শেখ মুজিবুর রহমান

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ১৬. মার্চ. ২০১৮ | শুক্রবার

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

ইরানী বিশ্বাস
সম্পাদক

খুলনা ও ফরিদপুর (তৎকালীন) জেলাকে ভাগ করেছে মধুমতী নদী। এই নদীর পাড়ে ফরিদপুর জেলার সর্বশেষ ইউনিয়ন টুঙ্গিপাড়া। ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ জন্ম হয়েছিল বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের। টুঙ্গিপাড়ার শেখ বংশের নাম এতদাঞ্চলে বেশ পরিচিত ছিল সে সময়ে।
শেখ বোরহানউদ্দিন নামে এক ধার্মিক পুরুষ এই বংশের গোড়াপত্তন করেছিলেন বহুদিন পূর্বে। শেখ মুজিবুরের দাদার নাম ছিল শেখ আবদুল হামিদ ও নানার নাম ছিল শেখ আবদুল মজিদ। ছোট দাদার নাম ছিল শেখ আবদুর রশিদ। তিনি ইংরেজের দেয়া ‘খান সাহেব’ উপাধি পেয়েছিলেন। জনসাধারণ তাকে খান সাহেব বলে ডাকতেন। শেখ মুজিবুরের দাদার আমল থেকেই ইংরেজি লেখা-পড়ার প্রচলন শুরু হয়েছিল। ১৯৩৪ সালে তিনি সপ্তম শ্রেনিতে পড়ার সময় হঠাৎ বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েনে। চিকিৎসার জন্য কোলতাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডাক্তার শিবপদ ভট্টাচার্য, এ কে রায় চৌধুরীসহ অনেক বড় বড় ডাক্তারদের তত্ত্বাবধানে দুই বছর চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৩৬ সালে ফের তিনি আবার চোখের গ্লুকোমা রোগে আক্রান্ত হন। আবার তিনি কোলকাতা যান চিকিৎসার জন্য। সেখানকার বিশিষ্ট ডাক্তার টি. আহমেদ সাহেব চোখ অপারেশন করেন এবং চশমা পরতে বলেন। একবছর লেখাপড়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেন ডাক্তার। এ সময় তিনি নিয়মিত হয়ে পড়েন ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বদেশী আন্দোলন।
১৯৩৭ সালে আবার তিনি লেখাপড়া শুরু করলেন। ভর্তি হলেন গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুলে। তখন বঙ্গবন্ধুকে পড়ানোর জন্য কাজী আবদুল হামিদ এমএসসি মাস্টার সাহেবকে রাখা হয়েছিল। মাস্টার সাহেব গোপালগঞ্জে একটা ‘মুসলিম সেবা সমিতি’ গঠন করেছিলেন। এ সমিতির মাধ্যমে গরীব ছাত্রদের সাহায্য করতে বাড়ি বাড়ি মুষ্টি ভিক্ষার চাল উঠানো হতো। হঠাৎ যক্ষা হয়ে সেই মাস্টারের মৃত্যু হলে অনেক বছর বঙ্গবন্ধু এই সমিতির সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৩৮ সালের ঘটনা। শেরে বাংলা তখন বাংলার প্রধানমন্ত্রী এবং সোহরার্দী শ্রমমন্ত্রী। তাঁদের গোপালগঞ্জ আগমন উপলক্ষ্যে বিরাট সভার আয়োজন করা হয়েছিল। শহীদ সাহেব মিশন স্কুল দেখতে গিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু মিশন স্কুলের ছাত্র ছিলেন তাই তিনি সম্বোর্ধনা দেয়ার দায়িত্ব পেয়েছিলেন। চলে যাবার সময় শহীদ সাহেবের সঙ্গে হেটে হেটে লঞ্চ পর্যন্ত গেলেন বঙ্গবন্ধু। এ সময় শহীদ সাহেব তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন , ‘এখানে মুসলিম লীগ করা হয় নাই? উত্তরে তিনি বলেছিলেন কোন প্রতিষ্ঠান নেই, মুসলিম ছাত্রলীগও নাই। শহীদ সাহেব কোন কথা না বলে শুধু বঙ্গবন্ধুর নাম ও ঠিকানা নোট বুকে লিখে রাখলেন। কিছুদিন পর তিনি বঙ্গবন্ধুকে চিঠি দিলেন। এভাবে শহীদ সাহেবের সঙ্গে চিঠিতে যোগাযোগ করতেন তিনি।
১৯৩৯ সালে কোলকাতা গিয়ে শহীদ সাহেবের সাথে দেখা করে বললেন, গোপালগঞ্জে মুসলিম ছাত্রলীগ ও মুসলিম লীগ গঠন করা হবে। এভাবেই তিনি ধীরে ধীরে রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়লেন।
১৯৪১ সালে তিনি ম্যট্রিক পরীক্ষা দেবেন। কিন্তু পরীক্ষার আগে ভীষন জ্বর ও মামস হওয়াতে দ্বিতীয় বিভাগে পাশ করেন। এতে মানসিক ভাবে ভীষন ভেঙ্গে পড়েন। তবে বেশি করে সভা-সমাবেশে যোগদান করেন।
৬ জানুয়ারী ১৯৭০ সাল। পুনরায় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচিত হন। ৭ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচনে জননেতা শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ জাতীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়।
১৯৭১ সালের ৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু হরতাল আহ্বান করেন, ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে। ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জনসমুদ্র থেকে ঘোষনা করেন ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা। তারপরের অধ্যায় সকলেরই জানা। ৯ মাস যুদ্ধের পর আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন দেশ।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বয়স ৩ বছর বয়সে বেগম ফজিলাতুন্নেসা রেণু’র বাবা মারা যাবার পর তাঁর দাদা এসে বঙ্গবন্ধুর বাবাকে বললেন, ‘তোমার বড় ছেলের সাথে আমার এক নাতনীর বিবাহ দিতে হবে।’ এভাবেই বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। ৫ বছর বয়সে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসার মা মারা যান। তারপর থেকে তিনি বঙ্গবন্ধুর মায়ের কাছে চলে আসেন। ধীরে ধীরে বড় হতে থাকনে বঙ্গমাতা। বঙ্গমাতা ও বঙ্গবন্ধুর ঘর আলো করে আসেন শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে নিজ বাসভবনে স্বপরিবারে তিনি নিহত হন। এ দিনের মাধ্যমে অবসান হয় একটি অধ্যায়ের। বাংলাদেশ নামের সাথে চির উজ্জ্বল ভস্কর হয়ে থাকবেন তিনি। আমাদের জনক শেখ মুজিবুর রহমান

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৭২৫ বার







Archives