চেতনায় ফেব্রুয়ারী

প্রথম সময়: admin | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ০১. ফেব্রুয়ারি. ২০১৮ | বৃহস্পতিবার

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে এবারও ঘুরে এলো একটি মাস। ক্যালেন্ডার থেকে প্রথম পাতাটি খসে পড়লে, মনে পড়ে যায় নিজের কথা। আমি বাঙালী, এটা আমার অহংকার। বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা। আমার মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া আমার নিজের ভাষা, বাংলা ভাষা। পৃথিবীর ইতিহাসে দেশ এবং ভাষা একই শব্দে গাঁথা, বিরল ঘটনা। যার তেজদ্বীপ্ত সাক্ষি আমারা লড়াকু বাঙালী।
বাঙালী জাতি নিজেকে লড়াকু হিসাবে প্রমান করেছে ইতিহাসের পরতে পরতে। ১৯৫২ সালে বুকের রক্তের বিনিময়ে মায়ের মুখের ভাষা রক্ষা করেছে এদেশের দামাল সন্তানেরা। এ জাতি তাদের কখনো ভুলবে না। ভাষাসৈনিক সেসব বীর সন্তানদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথম দিনে। ইতিহাসের পাতায় এ মাসটি স্থান না পেলে আমি কখনোই লেখক হতে পারতাম না। হয়তো বাংলা আমার ভাষা বলেই আজ আমি একজন লেখক। বাংলা বর্ণমালা সৃষ্টি হয়েছে বলেই আমি নিজের মনের কথা ব্যক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। মনের ভাষায় লিখছি মনের সব জমানো কথা, প্রকাশ করছি অনুভুতি।

ক্যালেন্ডারের পাতায় লাল রঙে লেখা ফেব্রুয়ারীর একুশ তারিখ। লাল রঙ সব সময় আমাকে মনে করিয়ে দেয় স্বজনের রক্তে রাঙা রাজপথ। ১৯৫২ সালে তৎকালিন পূর্বপাকিস্তানের কিছু দামাল ছেলেরা ফুসে উঠেছিল পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠির ওপর। তারা রাষ্ট্র ভাষা উর্দু মানে না। তাদের মায়ের ভাষা বাংলা হোক রাষ্ট্রভাষা, একটাই দাবি। পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠির রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে সেদিন মায়ের ভাষা রাষ্ট্র ভাষার অধিকার আদায়ে রাজপথে নেমেছিল পূর্বপাকিস্তান তথা আজকের বাংলাদেশের ছেলেরা। জীবনের বিনিময়ে তারা সে অধিকার রক্ষা করেছিল। রফিক, শফিক, বরকত, সালামসহ অনেক নাম না জানা তাজা তরুন জীবন দিয়েছিল। তাদের স্মরনে তৎকালিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গনে শহীদ মিনার তৈরি করা হয়েছিল। যা আজকের জাতীয় শহীদ মিনার নামে পরিচিত।
একুশ মানে চেতনা। একুশ মানে বাংলাভাষার অধিকার। একুশ মানে মায়ের ভাষায় দ্বীপ্ত উচ্চারণ। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারী বাঙ্গালী জাতির কাছে একটি বিশেষ দিন। ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে, পৃথিবীর ইতিহাসে এটি বিরল। এরই মধ্যে একুশে ফেব্রুয়ারী আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এটা বাঙালী হিসাবে অত্যন্ত গর্বের। তবু চারিদিকে বাংলাভাষার অবমাননা হতে দেখা যায়। আধুনিকতার নামে বাংলাকে বিকৃত উচ্চারণ শুনে বড় কষ্ট হয়। যেন বাংলাভাষা খুবই দরিদ্র, তাকে সম্পূর্ন ব্যক্ত করতে হলে অন্য ভাষার সাহায্য ছাড়া চলেই না। আজকাল রেডিও টিভি উপস্থাপিকাদের দেখলে মনে হয় ইংলিশ ছাড়া অন্য ভাষা জানাটা লজ্জাজনক। তবে ইংরেজি ভাষাটাও যদি শুদ্ধ উচ্চারিত হতো!
আমরা কি পারিনা শহীদদের রক্তের মর্যাদা দিতে। বছর ঘুরে না হোক অন্তত এই ফেব্রুয়ারী মাসে আমরা সকলে বাংলাভাষা চর্চা করি। এই একটি মাস আমরা প্রতিজ্ঞা করি বাংলা ভাষার শুদ্ধ উচ্চারণ করি। অন্তত ফেব্রুয়ারি থেকে এই চর্চাটা শুরু করি।

ইরানী বিশ্বাস
সম্পাদক

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫৯৫ বার







Archives