সাতদিনের কারফিউ জরুরি

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ২৯. এপ্রিল. ২০২০ | বুধবার

সাতদিনের  কারফিউ জরুরি

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

সম্পাদক ইরানি বিশ্বাস:

আমরা কি আত্মঘাতী হতে যাচ্ছি
প্রশ্নটা সময়োপযুক্ত।উত্তর কারোরই জানা নেই। যে সময়ে করোনা সনাক্তকরণ বাড়ছে, ঠিক সেই সময়ে পোষাক কারখানা খুলে দেওয়া, ইফতারির জন্য রেস্টুরেন্ট খোলা রাখা কতোটা যুক্তিযুক্ত ঠিক জানি না।আমার মনে ঘুরে ফিরে একটাই প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে, সেটা হলো, সবাই দেখছে কিন্তু কেন প্রতিবাদ করছে না। অথবা সরকার প্রধানের নজর এড়িয়ে সত্যি কি এ সব হচ্ছে? আমার ধারনা তিনি সরকার প্রধান হলেও তিনি প্রথমত বঙ্গবন্ধু কন্যা। শত্রু তার ঘরের মধ্যেই বসবাস করবে এটাই স্বাভাবিক। তাহলে কি তিনি আবারও ভুল পথে হাটছেন? অনেকের পদ, পদবী, লাভ, ক্ষতি অনেক কিছুর হিসাব আছে, তাই হয়তো দেখেও না দেখার ভান করছেন। আমার তেমন কোন হিসাব নেই। তাই বলার সাহস পেয়ে বলছি। কারন আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে ব্যক্তিগত আমার কোন লাভ নাই। তবে না থাকালে অনেক বেশি ক্ষতি। কারন ২০০১ সালে ক্ষমতা হারানোর সময় আমি ঢাকাতে। একটু একটু সাংবাদিকতার সাথে জড়িত হতে শুরু করেছিলাম। সে সময় আমার বাড়ি গোপালগঞ্জ এটা বলতে ভয় পেতাম। মনে আছে, বিএনপির এক নেতার স্ত্রী তখন উমেন চেম্বার অব কমার্্স এর চেয়ারম্যান। তার একটা ইন্টারভিউ করতে গিয়েছিলাম। আমার বাড়ি গোপালগঞ্জ জানার পর তিনি আমাকে চা খাওয়ার অফার করতে ভুলে গিয়েছিলেন। অপমানিত হয়েছি পদে পদে। সবশেষে সবাই জানেন, একজন তো গোপালগঞ্জের নামই বদলে দিতে চেয়েছেন। সে যা-ই হোক, এসব কথা বাদ দিলাম। আমরা আসল কথায় আসতে চাই।
আমার জানা মতো, সরকারী ভাবে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূরন। যে খাবার মজুত আছে তাতে অন্তত আগামী আমন মৌসুম পরযন্ত মজুত আছে। তারপর এখন বোরো-ইরি পেয়েগেছি। সুতরাং আগামী শীতকালীন পরযন্ত খাদ্য যথেষ্ট মজুত আছে। সরকার চাইলে বাঙালীকে বসে খাওয়াতে পারে অন্তত ৬ মাস । তাহলে কোথায় আমাদের অভাব ? কেন এই ঢিলেঢালা ভাব। কেন সরকার প্রধান একার সিদ্ধান্ত নিতে হচেছ। যা-ও বা তিনি সিদ্ধান্ত নিচেছন তাও কেউ পালন করছেন না। একটা যুদ্ধক্ষেত্র কখনো রাজা একা করেন না। তার বিজয়ী হওয়ার উপর নিরভর করে সেনাপতি বা সৈন্যদলপ্রধানের উপর।আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি পলাশীর প্রান্তরের যুদ্ধ। সবাই কেমন পুতুলের মতো দাড়িয়ে আছে। কেন এই অসহোযোগ। সরকার প্রধান একা এত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তাছাড়া তিনি গাছের মগডালে বসে কিভাবে গাছের শিকড়ের খোজ নিবেন। এই শিকড়ের খোজ যারা দিবেন দয়া করে তারা গাছের মগডালে সুষ্ঠ খবর পৌছে দেবেন।তা না হলে কচি নতুন ডাল বা পাতা জন্মানো একদিন বন্ধ হয়ে যাবে।
আমরা অনেকের খবর জানি, যারা কাক হয়ে ময়ুরের মুখোশ নিয়ে
দলের মধ্যে অবস্থান করছেন। যারা একদিন দল বদলে এক গুচছ ফুল নিয়ে আওয়ামীলীগে যোগ দিয়েছিলেন তারা কি সত্যি এই দলের আদর্্শ ধারন করতে পেরেছেন? যদি না পেরে থাকেন তাহলে প্লিজ মুখোশটা খুলে ফেলূন। আর সরে দাঁড়ান।বঙ্গবন্ধুর পরিবারের আর ক্ষতি করবেন না।
এয়ারপোরটে প্রবাসীদের না আটকানো চরম ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। তারপর পরিবহন না বন্ধ করে লকডাউন ঘোষনা করা আরো ভুল সিদ্ধান্ত। এরপর ৪ এপ্রিল হঠাৎ করে পোষাক কারখানা খুলে দেওয়ার কথা ঘোষনা। বেলা ২ টা পরযন্ত এসি রুমের মধ্য কেনাকাটা করার সিদ্ধান্ত। এবং সবশেষে ইফতারির জন্য রেস্টুরেন্ট খোলা রাখা। এগুলি সবই ভুল সিদ্ধান্ত। মাত্র সাতটি দিন কি সম্ভব ছিল না সব বন্ধ ঘোষনা করার? আমরা কি পারতাম না ৭ দিনের খাবার নিম্নবিত্তদের ঘরে পৌছে দিয়ে লকডাউন দিতে।সাতদিন না-ইবা খেলাম বাহারী খাবার। শুধু আলু আর ডাল দিয়ে কি জীবন চলতো না? হযরত মুহাম্মদ গরীবের দুঃখ বুঝানোর জন্য বড়লোকদের জন্য রোযার নিয়ম করে গেছেন। কারন বড়লোকরাও বুঝুক গরীবের কি যন্ত্রনা।কি মহৎ চিন্তা তিনি করে গেছেন কতোশত বছর আগে। অথচ এই আমরা মাত্র ৭ দিন আলু আর ডাল খেয়ে থাকতে নারাজ।আমি বলছিলাম লকডাউন আমরা বাঙালীরা বুঝি না। আমরা কারফিউতে বিশ্বাসী। মাত্র ৭ দিনের কারফিউতে যে কাজ হতো অন্তত বরতমান অবস্থার ৭ মাসের লকডাউনেও সেই কাজ হবে বলে আমার মনে হয় না।মাননীয়া সরকার প্রধান, আমি জানি আমার এই কথা আপনার কান পরযন্ত পৌছাবে না। তবুও চিন্তার বহিঃপ্রকাশ করার লোভ সামলাতে পারলাম না। বরতমান সরকারকে অযোগ্য প্রমান করতে এক শ্রেনী উঠেপড়ে লেগেছে।আপনার বাবার মতো অতটা বিশ্বাস নিয়ে চলবেন না।কারন যার যায় শুধু তারিই যায়। ১৯৭৫ পরবরতী গোপালগঞ্জ জেলা যে যন্ত্রনা ভোগ করেছে অন্য কারো কিন্তু ততটা হয়নি।যতদোষ নন্দঘোষ। খারাপ কিছেু হলে মায়ের বদনাম। আর ভাল হলে বাবার সুনাম। গোপালগঞ্জ জেলাবাসীর কিন্তু তেমনই পরিস্থিতি। সুবিধা না পেলেও ক্ষতি নেই। তবে আপনার টিকে থাকার উপর আমাদের ভাগ্য নিরভর করে। তাই এত তাগিদ কথা বলার।




Archives