খুশির নারী ও শিশুদের জন্য সামাজিক কাজ করতে চাই কিন্তু তার স্বপ্নের কি তাহলে অপমৃত্যু ঘটবে?

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ০৮. সেপ্টেম্বর. ২০১৯ | রবিবার

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

যোগ্যতা, দক্ষতা ও কাজের স্পৃহা এবং স্বপ্ন পূরণের বাঁধ ভাঙার অদম্য সাহস আছে তার। সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করছিলেন তিনি। কিন্তু একটি সিদ্ধান্তের কারণে এভাবে মাঝ পথে এসে খুশির পথচলা থেমে যাবে তা হয়তো ভাবেন নি কখনও। তাই তো নিরন্তর চেষ্টা করছিলেন নিজের স্বপ্নের বাস্তব রূপ দিতে। কিন্তু এখন একটি সিদ্ধান্তের কারণে তার সেই স্বপ্নের মৃত্যু ঘটতে যাচ্ছে। শুধু স্বপ্ন নয়, প্রাণভয়ে লুকিয়ে থাকতে হচ্ছে খুশিকে।

১৯৯২ সালের কথা, মিয়ানমারের সামরিক জান্তা যখন দেশটির রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর সাঁড়াশি অভিযান চালায়, তখন বাংলাদেশের কক্সবাজারে পালিয়ে এসেছিল রহিমা আক্তার খুশির পরিবার, ঠিক যেমন ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে বার্মিজ আর্মির বর্বরতার শিকার হয়ে আরো সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পেই জন্ম খুশির। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র তালিকাভুক্ত যে ৩৪ হাজার শরণার্থী রয়েছে তার মধ্যে খুশিও একজন।

কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই ক্যাম্পে বেড়ে উঠেন খুশি। যেটা এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে দেওয়া হয়।

রোহিঙ্গাপোস্ট ডটকম বলছে, বাংলাদেশ সরকার যখন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতর ও বাইরে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নিষিদ্ধ করে, তখন থেকেই রোহিঙ্গা শিক্ষার্থীরা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের পরিচয় গোপন করতে থাকে।

অন্যদের মতো ২০ বছর বয়সী খুশিও ভালো ফল নিয়ে এসএসসি ও এইচএসসি শেষ করেন। এর পর এলএলবি পড়তে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (সিবিআইইউ) আইন বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে তিনি সেকেন্ড সেমিস্টারে পড়ছিলেন।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একটি সিদ্ধান্তের কারণে তার এতদিনের প্রচেষ্টা আর ভবিষ্যত স্বপ্ন ধূলিসাৎ হতে বসেছে।

সম্প্রতি মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি খুশির একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করে। সাক্ষাৎকারের ওই ভিডিও ভাইরাল হয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তার প্রশংসা করা হয়। এর পরই তার আসল পরিচয় প্রকাশ হয়ে পড়ে। আর তার পর গত ৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে বহিষ্কার করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের আগে খুশিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হত্যাসহ নানা হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া গত ৪ জুলাই তাকে অপহরণের চেষ্টা হয়। সেখান থেকে পালাতে গিয়ে তিনি আহত হন। পরে কক্সবাজারের ফুয়াদ আল-খতিব হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

জীবনের ভয়ে বর্তমানে খুশি লুকিয়ে আছেন। পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা জানিয়েছেন, হত্যার হুমকির কারণে তিনি মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছেন।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- কর্তৃপক্ষের একটি সিদ্ধান্তের কারণে কি এভাবেই খুশির স্বপ্নের অকাল মৃত্যু ঘটবে।

রোহিঙ্গাপোস্ট ডটকম বলছে, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে জন্ম ও বেড়ে উঠলেও খুশি বেশ উদ্যমী তরুণী, যিনি বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের জন্য একটি সম্ভাবনা।

নিজের একডেমিক ক্যারিয়ারের বাইরে বেশ কিছু সামাজিক ও শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত খুশি। যার উদ্দেশ্য নারী ও শিশুদের শিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করা, বিজ্ঞান-প্রযু্ক্তির ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করা এবং তার রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ে প্রচেষ্টা চালানো।

শিক্ষার পাশাপাশি খুশি মার্কী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সদস্য, প্রথম আলো বন্ধুসভার অর্থসচিব, নারীর ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত সংস্থা দিভাসের প্রধান নির্বাহী অফিসার এবং পৌর প্রিপারেটরি আইসিটি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।

আরপি

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৭ বার




Archives