বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ভাদ্র মাসে তাল পিঠার ঘ্রাণে মুখরিত গ্রাম বাংলার

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ১৫. সেপ্টেম্বর. ২০২০ | মঙ্গলবার

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ভাদ্র মাসে তাল পিঠার ঘ্রাণে মুখরিত গ্রাম বাংলার

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

প্রথম সময় ডেস্ক:

দেশের ঐতিহাসিক ভাদ্র মাসে তাল পিঠার ঘ্রাণে মুখরিত গ্রাম বাংলার
গ্রাম বাংলার ঐতিহাসিক তালের পিঠা। ভাদ্র মাস এলেই মনে পড়ে যায় তালের সব বাহারী ডিজাইনের মুখরুচি পিঠার কথা। তালের কথা মনে হলেই ছুটি নিয়ে গ্রামে আসতে মন চায়। পাকা তালের কথা মনে পড়লে নিজের অজান্তেই তাল পিঠা খাওয়ার জন্য মন ব্যকুল করে ওঠে, লাল বর্ণের বিভিন্ন রঙের অসাধারণ মুখরুচি এই তাল পিঠা খেতে।

ভাদ্রমাসের সুপরিচিত ছোট-বড় সবার জানা সুস্বাদু ও লোভনীয় ফল তাল।আর তাই গ্রাম গঞ্জে কথায় বলে এবং জনপ্রিয় কন্ঠ শিল্পী মমতাজ বেগমের একটি জনপ্রিয় গান

ও প্রাণ সজনী সবি বুঝ প্রেম বুঝ না। ভাদ্র মাসের তালের পিঠা খেতে লাগে ভারি মিঠা। সবাই জানে তুমি কি জানো না প্রাণ সজনি সবই বুঝো প্রেম বুঝো না।

তবে ভাদ্র মাস আসলেই বেশি মনে পড়ে প্রেমিক-প্রেমিকার কথা।ভাদ্র মাস পড়ার সাথে সাথে তাল ফলের গায়ে লাল বর্ণের তাল পাকার আচ পড়তে থাকে।এবং ভাদ্রমাসের গরমের বাউ ও তার তীব্রতা প্রখর হয়ে পড়ে প্রায় প্রতিদিনই, আর এর সাথে সাথে তাল ফল আস্তে আস্তে লাল টুকটুকে ভিতরটা সোনালী বর্ণের হয়ে সু-মিষ্টিতে পরিনিত হয় সুস্বাদু পাকা তাল ফল।

শত গরমেও বাহারি রংঙে, ঢংঙে খাদ্য রসিক বাঙালী রসনা বিলাসের ভাদ্র মাসে তালের তৈরি নানা প্রকার সুস্বাদু খাদ্য আয়োজনে ব্যস্ত থাকেন গ্রাম গঞ্জের ছোট-বড় সব বয়সী মেয়েরা।

তালের তৈরী হরেক রকমের তাল পিঠা, তাল বড়া, তাল তেল, তাল রুটি, তালের পায়েশ, কলাপাতায় তাল পিঠা, তালের আমতা,এছাড়াও তালের তৈরী দুধস্বর পিঠা,তালের পুলি পিঠা, তালের রসকামরুল,রসভরি,রসভাগী,তালভোগী রুটি সহ তালের তৈরী নাম না জানা অসংখ্য ইত্যাদি সুস্বাদু খাবার তৈরী করে গ্রাম বাংলার কৃষাণীরা।আর এতে করে তালের তৈরী সুস্বাদু ঘ্রাণে চারিদিগ মুখরিত করে গ্রাম বাংলার ঐতিহাসিক।

এদিকে,তালের তৈরী খাবারে আত্মীয়তার সম্পর্কের অনেকটা সম্মান বজায় রাখতে দেখা যায় গ্রাম গঞ্জের মানুষের ভিতরে। শুধু তাই নয়,নতুন কিংবা পুরোনো এক পরিবারের সঙ্গে অন্য পরিবার অর্থাৎ বিবাহ বন্ধনের আত্মীয়তার সম্পর্কের বিয়াই বিহানের বাড়িতে আমের পাশাপাশি বছরে এই ভাদ্রমাসে তালের তৈরী বিভিন্ন প্রকার খাবার দিয়ে সম্মাননা যেন নিয়মনীতি অবধারিত।

ভাদ্রমাসে তালের তৈরী সুস্বাদু খাবার ধনী কিংবা, দরিদ্র, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে শরতের স্নিগ্ধ সন্ধ্যায় কিম্বা শিউলি ঝরা সকালে তালের তৈরি পিঠা হয়ে ওঠে গ্রামের প্রায় সকল বাড়তি বাড়িতে।তাছাড়া,ভাদ্রমাসে তালের মৌসুমে গ্রামের পাশ বয়ে হেঁটে চলতেই বাতাসে ভেসে আসে সুস্বাদু তালের তৈরী অজানা খাবারের সব ঘ্রাণ।

গ্রামগঞ্জে পাকা তাল খুব অল্প সময়ের জন্য পাওয়া যায় তাই এর কদরও একটু বেশীয়। কেউ আবার পুকুর পাড়ে তালের গাছ মানুষ করেছে। তালের তৈরি খাবার যেমন সুস্বাদু তেমনি এর প্রস্তুত প্রনালী একটু কষ্টসাধ্য।

তবে খুব ধৈর্য্য নিয়ে গ্রাম গঞ্জের বয়স্ক দাদী নানী, মা,চাচী,খালা ফুফুরা তালের আঁশ থেকে কেউ ছোট ডালিতে করে বের করে আবার কেউ টিন ফুটো করে নির্যাস বের করে তৈরি করেন তালের বহু রংঙ ও অভিলাষী সুস্বাদযুক্ত মনমাতানো লোভনীয় তালের তৈরী সব খাবার।এতে করে এমন সব খাবারের স্বাদ ও ঘ্রাণে বাতাসে মুখরিত করে গ্রামের আশপাশ।




Archives