লিবিয়ায় পাচার, ক্যাম্পে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন!

প্রথম সময়: নিউজ ডেস্ক | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ০৯. জুন. ২০২০ | মঙ্গলবার

লিবিয়ায় পাচার,  ক্যাম্পে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন!

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

প্রথম সময় ডেস্ক:

বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ থেকে দালালদের কারনে বিপদে পথে পা দেয় সহজ সরল মানুষু কাজেই দালাল থেকে সাবধান। লিবিয়ার বিভিন্ন এস্টেটে কাজ ও লিবিয়া হতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে অন এ্যারাইভাল ও ভিজিট ভিসার মাধ্যমে পাচার করতো বাংলাদেশি দালালরা।
এরপর ভিকটিমদের লিবিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে আটক রেখে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করতো। পরে নির্যাতিতদের কান্নাকাটি ও আকুতি অডিও রেকর্ড করে অথবা সরাসরি মোবাইল কলের মাধ্যমে বাংলাদেশে অবস্থানরত তাদের পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজনদেরকে পাঠাতো এবং মুক্তিপণ দাবি করতো৷ ফলে কোন কোন ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের প্রাণ বাচাঁতে তাদের পরিবার ভিটাবাড়ি বিক্রি করে টাকা পাঠাতো।
সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল বাতেন।
এর আগে রোববার গোয়েন্দা বিভাগের একাধিক টিম রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যা ও মানব পাচারের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বাদশা মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, আকবর আলী, সুজন, নাজমুল হাসান ও লিয়াকত শেখ ওরফে লিপু। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি পাসপোর্ট, দুইটি মোবাইল ফোন ও টাকার হিসাব রাখার দুইটি নোট বুক উদ্ধার করা হয়।

গত ২৮ মে লিবিয়ার মিসদাহ উপ-শহরের মরুভূমিতে ২৬ জন বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। মারাত্বকভাবে আহত করা হয় আরো ১১ জনকে। লিবিয়া এবং ইটালীতে অভিবাসী হতে যাওয়া শত শত বাংলাদেশি বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনে আহত, নিহত ও চিরতরে নিখোঁজ হয়েছেন। এ সকল ঘটনায় ভিকটিমদের আত্মীয় স্বজনদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাদারীপুর জেলা, কিশোরগঞ্জ জেলা এবং ডিএমপি’র পল্টন ও তেজগাঁও পৃথক থানায় মামলা রুজু হয়।

ব্রিফিংয়ে ডিবি কর্মকর্তা আবদুল বাতেন জানান, মানব পাচারের ঘটনায় ভিকটিমদেরকে ভারত, দুবাই, মিশর হয়ে লিবিয়াতে পাচার করার পরিকল্পনা, প্রক্রিয়া করা এবং ক্ষেত্রবিশেষে বিমানবন্দর, ঢাকাকে ব্যবহার করার কারণে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ দায়েরকৃত মামলাগুলোর ছায়া তদন্ত শুরু করে ।

তিনি বলেন, লিবিয়ার বিভিন্ন এস্টেটে কাজ ও লিবিয়া হতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে অন এ্যারাইভাল ও ভিজিট ভিসার মাধ্যমে পাচার করতো বাংলাদেশি দালালরা। এরপর ভিকটিমদের লিবিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে আটক রেখে শারিরীক এবং মানসিক নির্যাতন করতো। পরে নির্যাতিতদের কান্নাকাটি ও আকুতি অডিও রেকর্ড করে অথবা সরাসরি মোবাইল কলের মাধ্যমে বাংলাদেশে অবস্থানরত তাদের পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজনদেরকে পাঠাতো এবং মুক্তিপণ দাবি করতো৷ ফলে কোন কোন ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের প্রাণ বাচাঁতে তাদের পরিবার ভিটাবাড়ি বিক্রি করে টাকা পাঠাতো।

আবদুল বাতেন আরও জানান, নিহত মাদারীপুরের ৭ জনকে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়াতে আমির হোসেনের কাছে পাচার করেছিল তার ভাই গ্রেফতার আকবর হোসেন।

এছাড়া গ্রেফতারদের মধ্যে বাদশা মিয়া ১৩ বছর লিবিয়াতে ছিলেন। লিবিয়ার বেনগাজী , জোয়ারা শহরে তার নিজস্ব ক্যাম্প আছে। সমগ্র বাংলাদেশ থেকে সে নিয়মিত লিবিয়াতে মানব পাচার করে, পাচারকৃত বাংলাদেশিদের তার ক্যাম্পে আটক রেখে ইটালীতে সমুদ্রপথে মানুষ পাঠানোর গাম্বলিং করে। মাদারীপুরের নিহতদের মধ্যে ৪ জনকে তার ক্যাম্পে আটক রেখে ত্রিপোলীতে পাচার করার এক পর্যায়ে এ হত্যাকান্ড ঘটে।

আবদুল বাতেন বলেন, গ্রেফতার জাহাঙ্গির আলম ঢাকাতে অবস্থান করে নিজস্ব কায়দায় বেনগাজিতে মানব পাচার ছাড়াও স্থানীয় অন্যান্য দালালদের কাছ থেকে প্রাপ্ত পাসপোর্টগুলো স্ক্যান করে সফট কপি দুবাই এবং লিবিয়াতে প্রেরণ করে টুরিস্ট ভিসা, অন অ্যারাইভাল মোয়াফাকা সংগ্রহ করে, বেনগাজিস্থ ক্যাম্পে নির্ধারণ করে।

গ্রেফতার সুজন ভিকটিম ইছার উদ্দিন, বিজয় ও মো. সজলদেরকে লিবিয়ায় পাঠায়। গত ২৮ মে লিবিয়ায় ট্র্যাজিডিতে ভিকটিম মো. সজল আহত হয়ে লিবিয়ায় এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। নিখোঁজ মো. বিজয় ও ইছার উদ্দিনের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

গ্রেফতারকৃতদের পল্টন থানা ও তেজগাঁও থানায় মানবপাচার ও সন্ত্রাস বিরোধী আইনে হওয়া মামলায় আদালতে পাঠানো হবে বলেও জানান ডিবি পুলিশের




Archives