বাংলাদেশে জরিমানা করলেই বদলির হুমকি

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ০৫. জুন. ২০১৯ | বুধবার

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট :

 

 

ঢাকা: আড়ংকে জরিমানা, এরপর বদলি এবং সবশেষ বদলির আদেশ স্থগিতের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপপরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন ফেলা এ ঘটনায় নেটিজেনদের অভিযোগ, আড়ংকে জরিমানা করার জের ধরেই বদলি করা হয় এই উপসচিবকে।

তবে অনুসন্ধানে জানা যাচ্ছে, এর আগেও অফিসার্স ক্লাব, পারসোনা, উইমেন্স ওয়ার্ল্ডের মতো সুপরিচিত সব প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছিলেন শাহরিয়ার। এর মধ্যে অফিসার্স ক্লাব থেকে রীতিমতো হুমকি পেয়েছিলেন— ভোক্তা অধিকারে কতদিন তিনি থাকতে পারেন, তা দেখে নেওয়া হবে। একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

আরও পড়ুন।

জানা গেছে, গত ১২ মে অফির্সাস ক্লাবের ক্যান্টিনে অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদফতর। সেখানে নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি হতে দেখেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যরা। বাসি খাবার সংরক্ষণ ও খাদ্যে ক্ষতিকর রঙ ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও দেখতে পান। এসব অভিযোগে অফিসার্স ক্লাবকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিজ্ঞাপন সেদিন অভিযানের নেতৃত্বে থাকা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপপরিচালক মঞ্জুরর  মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেছিলেন, আমরা এখানে খাবারে নিষিদ্ধ রঙ পেয়েছি যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। তিনি জানান, হেড ক্যাপ ও হ্যান্ড গ্লাভস না পরেই ক্যান্টিনে কাজ করছিলেন সেখানকার কর্মীরা, খাবারের পাতিলও নিচে রাখা ছিল।

একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র প্রথম সময়কে জানায়, অফিসার্স ক্লাবকে সেদিন জরিমানা করাটাই কাল হয়েছে মঞ্জুর মোহাম্মাদ শাহরিয়ারের জন্য। এমন অবস্থায় সোমবার (৩ জুন) শাহরিয়ারকে বদলি করে দেওয়া হয় সড়ক ও জনপথ খুলনা জোনের এস্টেট ও আইন কর্মকর্তা হিসেবে। এদিকে, একই তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রজ্ঞাপনে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের  বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্যারিফ কমিশনের যুগ্ম প্রধান হিসেবে বদলি করা হয়। সূত্রগুলো মনে করছে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের অভিযানে অফিসার্স ক্লাব ক্যান্টিনকে জরিমানা করার কারণেই অধিদফতরের অন্যতম এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

একটি সূত্র  প্রথম সময়কে  জানান, মঞ্জুর শাহরিয়ারের নেতৃত্বে যেদিন অফিসার্স ক্লাব ক্যান্টিনে অভিযান চালানো হয়, সেদিনই শাহরিয়ারকে হুমকি দিয়েছিলেন ক্লাবের সেক্রেটারি ইব্রাহীম হোসেন খান। তিনি সরকারের একজন সাবেক সচিব। অভিযানে ক্যান্টিনকে জরিমানার পর তিনি শাহরিয়ারকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, তোমরা অফির্সাস ক্লাবের ভেতরে ঢুকে মোবাইল কোর্ট করো! তোমরা এখানে কতদিন থাকতে পার, আমি এটা দেখাব।’

সূত্রগুলো বলছে, পারসোনা বিউটি পার্লারসহ বড় বড় প্রতিষ্ঠানে অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মঞ্জুর শাহরিয়ার। এসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাকে বদলি করার জন্য চাপ থাকতে পারে। বিশেষ করে অফিসার্স ক্লাবের সেক্রেটারির হুমকির প্রভাবেই মঞ্জুর মোরশেদ চৌধুরী ও মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারকে বদলি করা হলে সেটি মোটেও অস্বাভাবিক কিছু নয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৯ মে মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের বদলির সিদ্ধান্তটি উত্থাপিত হয়েছিল মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে। আড়ংয়ে  জানিয়ে প্রজ্ঞাপনও প্রস্তুত হয়। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সূত্রগুলো জানায়, আড়ংয়ের অভিযান না হলেও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে যেসব ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে, সেগুলোই তার বদলির কারণ। অধিদফতরের পরিচালকের বদলিও একই কারণে।

এদিকে, আরেকটি সূত্র জানায়, ১২ মে অফিসার্স ক্লাবে অভিযানের পর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জরিমানা করতে না করেছিলেন শাহরিয়ারকে। তখন শাহরিয়ার একবার ভেবেছিলেন, সতর্ক করেই ছেড়ে দেবেন ক্লাব ক্যান্টিনকে। কিন্তু পরে তিনি ছাড় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং জরিমানা করেন। ওই দিনই তাকে হুমকি দেন অফিসার্স ক্লাবের সেক্রেটারি।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় অফিসার্স ক্লাবের সেক্রেটারি ইব্রাহীম হোসেন খানের সঙ্গে। তিনি মোবাইল ফোনে প্রথম সময়কে বলেন, আমি কেন হুমকি দেবো? আমি হুমকি দেওয়ার কে?

সরকারের সাবেক এই সচিব বলেন, আপনি দুই লাখ টাকা জরিমানার কথা বলছেন, আমরা চিঠি পেয়েছি পাঁচ হাজার টাকার। আর হুমকি দেবো কেন? সেটার কথা আজ এতদিন পরে কেন বলছে?

নিজে সরকারি চাকরিতে নেই জানিয়ে ইব্রাহীম খান বলেন, তবে একটি কথা বলি, অফিসার্স ক্লাবের ক্যান্টিনের বিষয়ে যে অভিযোগগুলো করা হয়েছিল, সে অভিযোগগুলো মোটেও সত্য নয়।’ সামনাসামনি কথা বললে বিষয়গুলো পরিষ্কার করা যাবে বলেও জানানতিনি।

 

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৪ বার




Archives