দুর্নীতিবাজদের সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না: ব্যারিষ্টার মওদুদ

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ২৭. সেপ্টেম্বর. ২০১৯ | শুক্রবার

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

প্রথম সময় ডেস্ক;

দুর্নীতিবাজদের সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না: মওদুদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | ২:৫১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭,২০১৯

 

সরকার দুর্নীতিবাজদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

তিনি বলেন, ‘প্রতিটা ক্ষেত্রে পতন ঘটেছে।  এই পতনের কারণ হলো দেশে কোনো প্রতিনিধিত্বশীল সরকার নেই। যার কারণে আজকে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তাদের নিজেদের দলের নেতা-কর্মীদের দুর্নীতি এমন প্রসার লাভ করেছে যাতে সরকার তাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে।’

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এগ্রিকালচারিস্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এ্যাব বাংলাদেশ আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘২৯ ডিসেম্বর যে নির্বাচন হয়েছে সে নির্বাচন সংবিধান সম্মত হয়নি। সেজন্য আমাদের দেশে আজ একটি জবাবদিহিতাহীন সরকার বিরাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘এই সরকারের নিয়ন্ত্রণ এখন আর নেই। সেটার প্রমাণ আমরা গত দুই সপ্তাহে পেয়েছি। শামীম, খালেদ আর সম্রাট এরা মাত্র তিনটি নাম, আরও শত শত নাম আছে এবং শত শত মানুষ আছে যুবলীগ করে যারা চাঁদাবাজি করে, ক্যাসিনো চালায় এবং জুয়ারি আসর বসায় এরা কারা? তারা তো এই দলেরই নেতৃবৃন্দ।’

মওদুদ বলেন, ‘আজকে ছাত্রলীগের শোভন-রাব্বানী, সভাপতি সেক্রেটারি হয়ে যে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়েছিলেন। তা আজ শুধু শোভন রাব্বানী নয়, এই দলের মধ্যে অনেক শোভন-রাব্বানী রয়েছে। একজন ছাত্রনেতা ৮৬ কোটি টাকা দূর্নীতি করতে পারে এটা আমি কল্পনাও করতে পারি না। ছাত্রনেতা এত টাকা চাঁদাবাজি করবে এটাতো কল্পনার বাইরে।’

তিনি বলেন, ‘আজ দূর্নীতি বাংলাদেশের সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে। নিজেদের দলের মধ্যেতো আছেই এমন কি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ উপাচার্য দূর্নীতি অভিযুক্ত। ১১ টি পাবলিক ইউনিভার্সিটির মধ্যে তিনজন উপাচার্যের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়েছে। উপাচার্য একজন সম্মানিত ব্যক্তি কিন্তু তারাও আজ দূর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়েগেছে। একই সঙ্গে আদালতেও সর্বত্র দূর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে।’

অবিলম্বে এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে এমনটা দাবি করে মওদুদ বলেন, ‘পদত্যাগ করে দেশে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন নিবেন। যে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব সরকার গঠিত হলেই এই নৈরাজ্য, চাঁদাবাজি, জুয়ারি, ক্যাসিনো দূর হবে। তাছাড়া এই সরকারের পক্ষে নিজেদের দলের লোকদের দুর্নীতি তারা দূর করতে পারবেন না। আজকে হয়তে খবরের কাগজে খুব ভালো করে ছাপানো হচ্ছে। দেখবেন কয়েকদিন পরেই এগুলো ধামাচাপা দিয়ে দেয়া হবে। এরা এতো প্রভাবশালী এদের সঙ্গে যে সকল এমপি-মন্ত্রীরা জড়িত তাদের প্রভাবে শেষ পর্যন্ত এদের কিছুই হবে না।’

তিনি বলেন, ‘এই অবস্থার প্রেক্ষিতে আজকে সরকারের সবচাইতে বেশি প্রয়োজন দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। আর গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হলে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। বেগম জিয়া একটি বানোয়াট মামলায় মাত্র দুই কোটি টাকার অভিযোগ আজকে তাকে জেল খানায় থাকতে হচ্ছে। এক বছর সাত মাস হয়ে গেছে যেই যেই মামলায় তার সাতদিনের মধ্যে জামিন হওয়ার কথা আজ এক বছর সাত মাসেও তার জামিন হয় না। সরকারের রাজনীতির প্রভাবের কারণ আদালত সমুহ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না সেই জন্যই খালেদা জিয়া আজ জেলখানায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে এই সরকার ভয় পায় কারণ তারা জানে বেগম খালেদা জিয়া যদি মুক্ত হয় তাহলে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে স্বেচ্ছাচারিতা আর থাকবে না। ফ্যাসিবাদি সরকার আর থাকবে না, দেশে আইনের শাসন ফিরে আসবে।’

মওদুদ বলেন, ‘বেগম জিয়াকে আইনের আওতায় রেখে মুক্ত করা সম্ভবপর হবে না আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কোন আদালতে খালেদা জিয়ার জন্য কোন রকমের সুসংবাদ নেই। কারণ আদালতগুলোতে তারা সম্পূর্ণভাবে প্রভাবযুক্ত করেছেন। সেজন্য রাজপথেই একমাত্র পথ। আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য আমাদের সকল গণতান্ত্রিক দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তিসমুহকে ঐক্যবদ্ধ হতে এই আন্দোলনেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হারুনুর-রশিদের সভাপতিত্বে এবং বিএনপির সহ প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীমেরর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির যুগ্ন মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ওমর ফারুক, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম তোফা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েল, তাঁতী দলের যুগ্ন আহবায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।

 

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২২ বার




Archives