‘অস্বাভাবিক পরিস্থিতি চায় ঐক্যফ্রন্ট

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ২৭. অক্টোবর. ২০১৮ | শনিবার

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

সোহাগ সামীঃ

অস্বাভাবিক পরিস্থিতি চায় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা’ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের শক্তি নিয়েই আমরা ক্ষমতায় এসেছি। জনগণের ভোটেই আমরা ক্ষমতায় এসেছি। আমার জনগণের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা বিশ্বাস আছে। যে উন্নয়নের ছোঁয়া আজকে সকলের জীবনে লেগেছে, নিশ্চয় তারা সেটা ধরে রাখবে এবং আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ দেবে। আওয়ামী লীগের জয় হবে।
শুক্রবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ ও পালামেন্টারি পার্টির যৌথসভার সূচনা বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা দেশে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি চায় মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘দেশটা যে সুন্দরভাবে চলছে। দেশের মানুষ স্বস্তিতে আছে, তাদের ভালো লাগছে না, তারা চায় একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। দেশটাকে অস্থিতিশীল করতে।’

সদ্যগঠিত জোটের নেতারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন চান কিনা প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জন্মলগ্ম থেকেই লড়াই-সংগ্রাম করেছে। দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও সফলতা এসেছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে। দেশের জনগণ ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এসেছি বলেই দেশে উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছি। আগামী নির্বাচনেও জয় আমাদের হবেই। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ সংগঠনের শিকড় অনেক গভীরে। দেশের উন্নয়নে কাজ করতে চাইলে যে সম্ভব তা প্রমাণ করেছি। আওয়ামী লীগ প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় এসে অনেক উন্নয়ন কাজ শুরু করে। কিন্তু, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে তা বন্ধ করে দেয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আমরা জয়ী হয়ে আবার দেশের উন্নয়নে কাজ শুরু করি। অনেক বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ করি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে আবার ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনে বলেই উন্নয়ন কাজগুলো দৃশ্যমান করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু, বিএনপি-জামায়াত ২০১৩ সালে ভোট ঠেকানোর নামে বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা, জ্বালাও-পোড়াও শুরু করে। কিন্তু, দেশের জনগণ রুখে দাঁড়ায় বলেই তারা পরাজিত হয়ে ঘরে ফিরে যায়। টানা ১০ বছর ক্ষমতায় আছি বলেই দেশে উন্নয়ন দৃশ্যমান করতে সক্ষম হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের টার্গেট তরুণ সমাজ। তরুণ সমাজ যেন কর্মসংস্থান করতে পারে সেজন্য তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। তারা যাতে বিনিয়োগ করতে পারে সেজন্য ব্যবস্থা করে দিয়েছি। বেসরকারিখাত উন্মুক্ত করে দিয়েছি। ফলে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে উন্নতি হবে। না থাকলে যারা স্বাধীনতাই চায়নি, সেই শক্তি ক্ষমতায় আসলে উন্নয়ন থেমে যাবে। তারা দেশের কোনো উন্নয়ন করবে না। ব্যক্তি উন্নয়ন করবে। অতীতেও আমরা তাই দেখেছি। জাতির জনককে হত্যার পর জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও খালেদা কোনো সরকারই দেশের উন্নয়ন করেনি। তাদের কাজ ছিল দুর্নীতি করা, স্বজনপ্রীতি, জাতির পিতার খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া। তারা যুদ্ধাপরাধীর বিচার বন্ধ করেছে।’

ঐক্যফ্রন্টের ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তিনি (কামাল হোসেন) যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এত বড় বড় কথা বলছেন, তিনি কার সঙ্গে ঐক্য করলেন? তিনি এতিমের টাকা চুরির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে নেতা মেনে জোট করলেন? তার মুখে কী দুর্নীতির কথা মানায়? তারা সিলেটে গিয়ে জনসভা করলেন, অথচ আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করলেন, আমরা নাকি বাধা দেই। কোথায় বাধা দিলাম? আমার নির্দেশ ছিল, যারাই সমাবেশ করতে চাইবে কাউকে বাধা দেয়া হবে না। অথচ বাধা দেয়ার অভিযোগ তুললেন। আসলে তারা চায়, আমরা বাধা দেই।’

সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন দিতে হবে— ড. কামাল হোসেনের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে সরকার প্রধান বলেন, ‘যেহেতু একটা রায় হয়েছে উচ্চ আদালতে যে, কোনো অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সংবিধানেই বলা আছে, কোনো অনির্বাচিত সরকার আসতে পারবে না। অনির্বাচিত কেউ সরকারের প্রধান হতে পারবে না। তাহলে কেন সংসদ ভেঙে দিতে বলছেন উনি (ড.কামাল)? একদিকে দাবি করবেন সংবিধান প্রণেতা, আবার সংবিধান মানবেন না? এমন আচরণ কেন? কেন নির্বাচিত সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে? কার স্বার্থে, কিসের জন্য? আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ব্যক্তি কি বোঝে না যে অনির্বাচিত সরকার আসার সুযোগ নেই?’

নিজের নামে মামলার কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপির আমলে আমার নামে ১২টি মামলা হলো। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে আমাদের একাধিক মামলা দিল। আমি কোনো মামলাই তুলে নিতে বলিনি। আমি তাদের চ্যালেঞ্জ করেছিলাম, প্রত্যেকটি মামলা তদন্ত করতে হবে। কোনো মামলায় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি।’

তিনি বলেন, ‘শুধু তাই নয়, কিছুদিন আগে পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হলো। আমি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলাম। দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারেনি। বরং পদ্মা সেতুর দুর্নীতির কাগজ খুঁজতে গিয়ে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও কোকো কোথায় কোথায় দুর্নীতি করেছে, তার প্রমাণ পেয়েছে। কানাডার ফেডারেল কোর্ট রায় দিয়েছে পদ্মা সেতুতের বিন্দুমাত্র দুর্নীতি হয়নি। বরং খালেদা, তারেক, কোকোর দুর্নীতির প্রমাণিত হয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে। তারা শুধু এতিমের টাকাই চুরি করে না। তারা আন্তর্জাতিক মানের দুর্নীতিবাজ।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অল্প সময়ে বেশি মানুষ সঠিকভাবে ভোট দিতে পারবে বলেই আমরা ইভিএম ব্যবহার করতে চাই। এতে কেউ কারো ভোট দেয়ার সুযোগ পাবে না। আবার কম সময়ের মধ্যেই ভোট গণনা করা যায়। পৃথিবীর বহু গণতান্ত্রিক দেশের ইভিএম ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আমরাও সে কারণে ব্যবহার করতে চাই। তারা সেখানেও বাধা দিতে চান। কিন্তু, কেন?’

তিনি বলেন, ‘তারা সরকারের উন্নয়ন চোখে দেখেন না। দেখবেন কিভাবে উন্নয়ন তো তাদের ভাল লাগে না। তাদের ভাল লাগে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। তাহলে তাদের কদর বাড়ে? যারা উন্নয়ন দেখেন না, তারা পাকিপ্রেমী। তাদের পাকিস্তানে চলে যাওয়া উচিত।’

বৈঠক প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘এই সংসদের আজকেই পার্লামেন্টারি পার্টির বৈঠক শেষ বৈঠক। দেশের মানুষ যদি আবার আমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনে তাহলে আবার বৈঠক করতো পারব।’

তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের গতিধারা যেন অব্যাহত থাকে, সেটাই চাই। দেশবাসীকে বলব- উন্নয়নের জন্য গতিধারা যেন অব্যাহত থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে যদি আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবারো আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনেন। আমার বিশ্বাস দেশের জনগণ আবারো নৌকায় ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনবে। কারণ, দেশের জনগণের প্রতি আমার আস্থা-বিশ্বাস আছে। কারণ, আওয়ামী লীগ যে দেশের মানুষের উন্নয়ন করতে পারে তা প্রমাণ করেছি। আগামী নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ নৌকার জয় হবেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীও আমরা উদযাপন করতে পারব। আমরা না থাকলে আর কেউ ভালোভাবে করতে পারবে না। কারণ, তাদের মনে পাকিস্তান। এখনো অনেকে বলে পাকিস্তান নাকি আমাদের চেয়ে বেশি উন্নত। যারা এটা বলে তাদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়া উচিত। বলা উচিত পাকিস্তানে যেয়ে দেখে আসেন। পাকিস্তানের ঋণ শোধের জন্য সৌদি আরব ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে। আমাদের কারো কাছে কোনো ঋণ নেই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ আমরা করে রেখেছি, যাতে বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকে। আর সেই গতি অব্যাহত থাকবে যদি আওয়ামী লীগ আবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসতে পারে। তাহলে মানুষ সুন্দর জীবন পাবে। প্রত্যেকটা গ্রাম শহরে রূপান্তর হবে। নাগরিক সকল সুবিধা গ্রামে বসেই পাবে<

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৯৯ বার







Archives