দলের কেউ জানেই না গনফোরামের প্যাডেই স্পিকারকে চিঠ দিলেন মোকাব্বির খান ।

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ০২. এপ্রিল. ২০১৯ | মঙ্গলবার

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

প্রথম সময় নিউজঃ

 

বাংলাদেশের  সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছিলেন সিলেট-২ আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী গণফোরামের

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোকাব্বির খান। তবে তার দল বলছে, শপথ বিষয়ে দল থেকে তাকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দলকে না জানিয়েই দলের প্যাড ব্যবহার করে তিনি শপথ গ্রহণের চিঠি পাঠিয়েছেন স্পিকারকে!

সোমবার (১ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছ থেকে গণফোরামের প্যাডে চিঠি পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়, স্পিকার সময় দিলে সেই অনুযায়ী জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন মোকাব্বির খান।

এ বিষয়ে সোমবার সন্ধ্যায় মোকাব্বির খান সারাবাংলাকে বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। এ বিষয়ে দল থেকে স্পিকারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। স্পিকার সময় দিলে আগামীকাল (মঙ্গলবার) বা পরশু (বুধবার) আমি শপথ নেব

গণফোরামের প্যাডে পাওয়া চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তাতে বলা হয়, মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সংসদ ভবন কার্যালয়ে মোকাব্বির খানকে শপথ পড়াবেন স্পিকার।

তবে গণফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলীয় অনুমতি ও সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ‘বেআইনি’ প্রক্রিয়ায় মোকাব্বির খান শপথ নিতে চিঠি দিয়েছেন স্পিকারকে।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী সোমবার রাতে প্রথম সময়কে ইতালী অফিসে  বলেন, গণফোরামের প্যাডেই তিনি চিঠি পাঠিয়েছেন। তবে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সেই প্যাড ব্যবহারের অনুমতি ও অধিকার রয়েছে কেবল সাধারণ সম্পাদকের। তিনি নিজে বা তার অনুমোদিত কোনো ব্যক্তি ওই প্যাড ব্যবহার করতে পারবেন। মোকাব্বির খান দলের সাধারণ সম্পাদককে না জানিয়ে যেভাবে ওই প্যাড ব্যবহার করেছেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি বেআইনি কাজ করেছেন।

সুব্রত চৌধুরী বলেন, তিনি (মোকাব্বির খান) দলের গঠনতন্ত্র ভঙ্গ করেছেন। আমরা এখন বসে সিদ্ধান্ত নেব। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কারণেই আমরা সুলতান মনসুরকে বহিষ্কার করেছি। একই ঘটনা তিনিও ঘটিয়েছেন। তার ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত আসে, তা জানতে সামনের বৈঠক পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি আরও বলেন, আগামী ২০ এপ্রিল আমাদের সাধারণ সভা ও ২৬ এপ্রিল কাউন্সিল রয়েছে। মোকাব্বির খান সাধারণ সভা ও কাউন্সিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারতেন। কিন্তু তিনি কারও তোয়াক্কা না করে শপথ নিতে যাচ্ছেন। এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তি স্বেচ্ছাচারিতার মধ্যে পড়ে। তার এই কাজ দলীয় গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের সামিল।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা মাত্র আটটি আসনে জয় পান। পরে গত ৩ জানুয়ারি সংখ্যাগরিষ্ঠ আওয়ামী লীগসহ তাদের শরিক দলগুলো থেকে বিজয়ীরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। তবে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট সিদ্ধান্ত নেয়, তাদের জোট থেকে জয়ীরা শপথ নেবেন না। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপি থেকে নির্বাচিত ছয় জন সংসদ সদস্য এখনও শপথ নেননি।

তবে এর মধ্যে গত ৭ মার্চ গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। ওই দিন তার সঙ্গে মোকাব্বির খানেরও শপথ নেওয়ার কথা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত দল সায় না দেওয়ায় সরে দাঁড়ান তিনি। আর সুলতান মনসুর দলের শীর্ষ নেতাদের জানিয়েই শপথ নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন। যদিও শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই দল তাকে বহিষ্কার করে

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৫ বার







Archives