ম্যাজিস্ট্রেট হওয়া হলো না গাড়িচালক বাবার মেয়ে দিয়ার

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ৩০. জুলাই. ২০১৮ | সোমবার

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

সোহাগ সামী ঃ

কোন এম পি বা মন্ত্রীর ছেলেমেয়ে স্কুল কলজের ছুটি হলে এইভাবে গাডিছাপায় মারা যাই না কারন তাদের নিরাপদ দেশে তারা লেখাপডাকরে আমেরিকা হয়তো লন্ডন কানাডা বা ইউরোপে আর ওই দেশে বাংলাদেশের মত যাত্রীর নিবার জন্য প্রতিঝোগিতা হয়না অভারট্যাক ও নাই কাজের এইরকম দূঘট না ও নাই। বাংলাদেশে সাধারন মানুষি মারা যাই । এইদিকে নৌ পরিবহন মন্ত্রী ভারত কে দিয়ে ৩৪ যাত্রীর মাঝে৩৩ মারাগেছে উদাহ্রন দের মারাযাওযাটাও কি প্রতঝোগি তা নিচ্ছে কেন? দুঘটনা ০ % আসলে বাংলাদেশে সেইটসি উদারন হবে কাজে ছাত্রছাত্রীদের কে নিরাপদ দিতে শান্তিক্লাবের কথা সুচনা ম্যাজিস্ট্রেট হওয়া হলো না গাড়িচালকের কারণে
রাজধানীতে দুই বাসের রেষারেষিতে এখন পর্যন্ত দুজন নিহতের খবর জানা গেছে। মৃত্যুপথে আরও দুজন। আহত ১৪ জনের জীবনে কী আছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। ওই দুই বাসের চালক না বুঝলেও নিহতদের স্বজনরা টের পাচ্ছেন তারা কী হারিয়েছেন!
রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হোটেল রেডিসনের বিপরীতে (এমইএস বাসস্ট্যান্ড) ফুটপাতে জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এরা হলেন- উচ্চমাধ্যমিক প্রথমবর্ষের ছাত্রী দিয়া আখতার মিম (১৭) এবং দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবদুল করিম (১৮)।

দিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর ফকির পেশায় গাড়িচালক। পরিবর্তন ডটকমকে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের স্বপ্ন ছিল ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার। কিন্তু সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল।’

তিনি বলেন, ‘আমি ওকে কলেজ যাওয়ার জন্য প্রতিদিন মহাখালী থেকে বাসে উঠিয়ে দিতাম। মাঝেমধ্যে কলেজ থেকে আনতেও যেতাম। আজও আমিই সকালে ওকে বিআরটিসি বাসে তুলে দেই। মনের মধ্যে কেমন যেন করছিল। তাই আমি ওকে ফোন জিজ্ঞেস করেছিলাম- মা, নিতে আসবো? কিন্তু ও বললো- না, বাবা আমি একাই আসতে পারবো।’

জাহাঙ্গীর ফকির বলেন, ‘গাড়ি নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যাওয়ার কথা ছিল বলে আমিও আর আনতে গেলাম না। কেন যে গেলাম না? গেলে হয়তো আজকে আমার মেয়েটা জীবিত থাকতো, আমার পাশে থাকতো।’

তিনি বলেন, ‘আমি একজন গাড়িচালক, একই সঙ্গে বাবাও। এভাবে যারা গাড়ি চালায় তাদর ফাঁসি হওয়া উচিত। যেসব মালিকরা এসব গাড়িচালক নিয়োগ দিয়েছে, সরকারের উচিত তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনা।’

নিহত দিয়ার বাবা বলেন, ‘যারা ঢাকায় গাড়ি চালায়, তারা অদক্ষ। এরা আগে সিএনজি অটোরিকশা চালাতো। গাড়ির মালিকরা লাইসেন্স ছাড়াই এদের চালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।’ দেখিইনি বাসটা কোত্থেকে এলো, এতটাই গতি ছিল’কলেজ ছুটির পর বাড়ি ফিরতে অন্য সহপাঠীদের সাথে বাসের অপেক্ষায় বিমানবন্দর সড়কে দাঁড়িয়েছিলেন শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী দিয়া আখতার মিম (১৭) এবং দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবদুল করিম (১৮)। কে জানতো এটাই শেষ অপেক্ষা হবে তাদের? বাড়ি ফিরতে পারেননি দিয়া ও করিম। দুই বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা নিমেষেই প্রাণ কেড়ে নেয় তাদের।
রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যখন কলেজ ফেরত শিক্ষার্থীরা বিমানবন্দর সড়কে রেডিসন হোটেলের বিপরীত পাশে এমইএস স্টপেজে বাসের অপেক্ষায় ছিলেন। তখন কালশি থেকে ফ্লাইওভার হয়ে নূরে মক্কা ও জাবালে নূর পরিবহনের দুইটি বাস পাল্লা দিয়ে আসছিল।

প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে জাবালে নূর পরিবহনের বাসটি দ্রুত গতিতে এসে উঠে পড়ে অপেক্ষমান শিক্ষার্থীদের উপর। মুহূর্তেই সবকিছু ওলটপালট হয়ে যায়। বাসটির চাপায় ঘটনাস্থলেই কলেজ শিক্ষার্থী দিয়া আক্তার মিম ও আবদুল করিম নিহত হন। আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

পথচারীরা সঙ্গে সঙ্গে হতাহতদের নিকটস্থ কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে গুরুতর আহত কয়েকজনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। আহত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
কুর্মিটোলা হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ছগির মিয়া পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ওই দুর্ঘটনায় আহত ১৪ জনকে আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাদের মধ্যে দুজন মারা যান। দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের সিএমএইচে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে আরো চারজনকে সিএমএইচে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় দুর্ঘটনা
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী সাকিব পরিবর্তন ডটকমকে জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার পর শিক্ষার্থীরা বাসে উঠার জন্য রেডিসন হোটেলের বিপরীত পাশে এমইএস স্টপেজে দাঁড়িয়েছিল।

এসময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস দ্রুতবেগে এসে শিক্ষার্থীদের চাপা দেয়। এতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে দুই শিক্ষার্থীকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সাদিয়া নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা সবসময় ব্রিজের এখানে দাঁড়াই বাসের জন্য। আজ দুইটি বাস প্রচণ্ড গতিতে রেস করতে করতে এগিয়ে আসছিল। কিছু বুঝে উঠার আগেই একটি বাস অপেক্ষমান শিক্ষার্থীদের উপর উঠে পড়ে। রাস্তার পাশে যে গাছটা ছিল, সেটাসহ উপড়ে নিয়ে যায়। আমরা দেখিইনি বাসটা কোত্থেকে এলো, এতটাই গতি ছিল।’

দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেলেও বাসের সুপারভাইজারকে মারধর করে আটকে রাখে শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

সহপাঠীদের মৃত্যর খবর পেয়ে কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে। তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে এবং বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে

জাহাঙ্গীর ফকিরের গ্রামের বাড়ি বরিশালে। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে দিয়া দ্বিতীয়। তারা সপরিবারে মহাখালী দক্ষিণ পাড়ায় থাকেন

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৫৫ বার




Archives