চলতি মাসে আবার সংলাপ

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ১৪. জানুয়ারি. ২০১৯ | সোমবার

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

 

 

প্রথম সময় ডেস্কঃ

 

চলতি (জানুয়ারি) মাসেই দেশের  দল গুলোর সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো সংলাপে বসবেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ২০ জানুয়ারির পর যেকোনো দিন থেকে এ সংলাপ শুরু হতে পারে। আওয়ামী লীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্য জানা গেছে।

ক্ষমতাসীন দলটির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৩০ জানুয়ারি একাদশ সংসদ অধিবেশন শুরু আগে সংলাপ শেষ করতে চায় আওয়ামী লীগ। কারণ, এরপর ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারিতে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তবে সংলাপের দিনক্ষণ ও আলোচনার বিষয় এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। এই বিষয়ে দলীয় সভাপতিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও জানান আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা।

এদিকে রোববার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকার আশপাশের দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দ্বিতীয় দফা সংলাপের বসার বিষয়টি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে যেসব দল ও জোট সংলাপে অংশ নিয়েছে, তাদের আবারও গণভবনে ডেকে সংলাপে বসবেন প্রধানমন্ত্রী। তাদের সঙ্গে তিনি মতবিনিময়ের পাশাপাশি আপ্যায়নের ব্যবস্থাও থাকবে। এ ব্যাপারে আমরাও সবাই একমত, যারা সংলাপ এসেছিলেন, তাদের আবারও নেত্রী সংলাপে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। একসঙ্গেই সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হবে।’

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। দুই তিন মাসের মধ্যে আরেকটি নির্বাচনের দাবি করে ও পুনরায় সংলাপে বসার আগ্রহ দেখায় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি। এ সময় তারা দেশের রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে জাতীয় সংলাপ করার ঘোষণা দেয়। এছাড়া চলতি মাসেই নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন ও মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ওই নেতা বলেন, সরকার বিরোধীদের এসব তৎপরতা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ফের সংলাপে বসতে আগ্রহী সরকারি দল। ঐক্যফ্রন্ট থেকেও পুনরায় সংলাপে বসার কথা বলা হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের জাতীয় সংলাপের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ হলে সর্বস্তরে একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের পর সরকারবিরোধী দলগুলোর যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি দুর্বল হয়ে পড়বে বলেও মনে করছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।এছাড়া সংলাপে কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা থাকবে, সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট করে কোনো এজেন্ডা এখনও তৈরি হয়নি। তবে ঐক্যফ্রন্ট থেকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে যেসব প্রার্থী জিতেছেন, তাদের সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার আহবান জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি দেশের চলমান উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে তাদের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রী গঠনমূলক পরামর্শও চাইবেন বলেও আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা জানান।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ অক্টোবর রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই জোটে ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম, আ স ম আবদুর রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যসহ সুশীল সমাজের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি ছিলেন। পরে এই জোটে যোগ দেয় কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগও।
আত্মপ্রকাশের পর থেকেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে বসার দাবি জানিয়ে আসছিল।

এরপর গত ২৮ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিপাঠানো হয় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। পরদিন (২৯ অক্টোবর) বিকেলে ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে বসতে সম্মত হয়েছে আওয়ামী লীগ। ৩০ অক্টোবর শেখ হাসিনার দফতর থেকে ঐক্যফ্রন্টকে চিঠি পাঠিয়ে জানানো হয়, ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে নবগঠিত এই জোটকে।

১ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত এই সংলাপ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে শুরুর পর তারই সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে শেষ হয় বৈঠক। সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোট এই সংলাপকে ‘খোলামেলা’ ও ‘ফলপ্রসূ’ বলে অভিহিত করলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা এই সংলাপে ‘আশাপ্রদ’ কিছু দেখেননি বলেই জানান। এরপর একে একে জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গেও সংলাপ করে আওয়ামী লীগ।

এদিকে, সংলাপে দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়া হয়নি অভিযোগ করে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় দফা সংলাপের আহ্বান জানানো হয়। পরে গত ৭ নভেম্বর গণভবনেই ফের ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে বসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৩ ঘণ্টার সংলাপ শেষে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জনগণের দাবি নিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলাম। আমাদের বলা হয়েছিল, আলোচনার সুযোগ রয়েছে। সংলাপ যদি সফল না হয়, কোনো সমাধান না আসে; তাহলে সেই দায় সরকারের।’

ওই সময় ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘বল এখন সরকারে কোর্টে। সবকিছু যেন শান্তিপূর্ণ থাকে, সে কারণেই আমরা সংলাপ করেছি।’

ওই দিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের সংলাপ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। তবে চাইলে এরপরও ছোট পরিসরে সরকার দলীয়দের সঙ্গে বিরোধী দল ও জোটের আলোচনা চলতে পারে।’

পরে অবশ্য আর কোনো সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়নি। ধারাবাহিক সংলাপের ফল নিয়ে শেখ হাসিনার একটি সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েও তা স্থগিত করা হয়। শেষপর্যন্ত নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করা হয়। এর মধ্যেই রোববার (১৩ জানুয়ারি) আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যেসব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ হয়েছিল, তাদের আবার আমন্ত্রণ জানাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬৫ বার







Archives