ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ’কে শেষ বিদায় জানাতে লাখো মানুষের ঢল

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ১৯. মার্চ. ২০২১ | শুক্রবার

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ’কে শেষ বিদায় জানাতে লাখো মানুষের ঢল

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

প্রথম সময় ডেস্ক:

সর্বজন প্রখ্যাত আইনজীবী বর্ষিয়ান রাজনৈতিক সাবেক উপরাষ্ট্রপতি বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ’কে শেষবারের মত বিদায় জানাতে জনসমুদ্রে পরিনত হয় নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভা সরকারী মুজিব কলেজ মাঠে ৫ম বারের মত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের জানাজার নামাজ বিকাল ৫ ঘটিকায় সম্পন্ন হয়েছে। ইমামতি করেন বসুরহাট আশরাফুল উলুম মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা মোঃ মোস্তফা সুফি। কপিন পৌঁছলে এসময় সেখানে এক হৃদয় বিধারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সকাল থেকে দূর-দূরান্ত থেকে কলেজ মাঠে ছুটে আসতে থাকেন লাখো ভক্ত। প্রখ্যাত এ আইনজীবীর মরদেহ পৌঁছানোর আগেই লোকে লোকারন্য হয়ে যায় সরকারী মুজিব কলেজ মাঠ সহ সমগ্র পৌর এলাকা।

জ্যেষ্ঠ এ আইনজীবীর জানাজায় অপ্রিতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ছিল আইন-শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য ও দলীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীরা। এর পূর্বে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সকাল ১০টায় ১ম জানাজা, ঢাকা হাইকোর্ট প্রাঙ্গনে সকাল ১১ টায় ২য় জানাজা, নয়া পল্টনে ৩য় জানাজা, ৪র্থ জানাজা কবিরহাট সরকারী ডিগ্রি কলেজ মাঠে, ৫ম জানাজা বসুরহাট সরকারী মুজিব কলেজ মাঠে এবং ৬ষ্ঠ জানাজা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নিজ বাড়ীর দরজায় শেষ করে তার পারিবারিক কবরস্থানে তার মা-বাবার কবরের পার্শ্বে লাশ দাপন করা হয়। জানাজার নামাজ শুরুর আগে তার সহধর্মীনি হাসনা জসিম উদ্দিন মওদুদ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের জীবদ্দশায় কেউ কোন মনে কষ্ট নিয়ে থাকলে তাকে ক্ষমা করার জন্য অনুরোধ করে। জানাজার পরিধি ছিল পুরো কলেজ মাঠ জুড়ে, কলেজের আশ-পাশের রাস্তা, দালান ঘরের ছাদ সহ সর্বত্র।

জানাজায় বিশিষ্ট জনদের মাঝে অংশ নেন, জ্বালানী উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান মো.শাহজাহান, কেন্দ্র বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য তাবিথ আউয়াল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার বিএসসি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ শাহাব উদ্দিন, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল হাই সেলিম, সভাপতি কামাল উদ্দিন চৌধুরী, সম্পাদক মাহমুদুর রহমান রিপন, নুরুল আলম সিকদার, নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান মোঃ নোমান, আবদুল মতিন লিটন, আবদুল্লাহ আল মামুন, ফজলুল কবির ফয়সাল, জাহেদুর রহমান রাজনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক নেতাকর্মি ও সকল পেশার মানুষ। এর আগে তাকে গার্ড অপ-অনার প্রদান করে রাষ্ট্রীয় মর্জাদায় তাঁর দাপন সম্পন্ন করা হয় উল্লেখ্য, পেশায় সুনামধন্য আইনজীবী কিন্তু পরিচয় ছাপিয়ে দেশবরেণ্য রাজনীতিবিদ তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকলেও তিন দফা দল পাল্টে বিএনপি, জাতীয় পার্টি পরে আবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এই নেতা। ক্যারিয়ারের সূচনা লগ্ন থেকেই নানাবিধ কর্মকান্ডের কারণে যেমন নন্দিত হয়েছেন, আবার বার বার দল বদলে হয়েছেন সমালোচিতও। তিনি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করে লন্ডন থেকে বার অ্যাট ‘ল’ ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। এরপর দেশে এসে উচ্চ আদালতে দায়িত্ব পালন শুরু করেন ব্যারিস্টার মওদুদ। রাজনীতির শুরুটা হয় আওয়ামী লীগের হাত ধরে। মুক্তিযুদ্ধের আগে তিনি কাজ করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে। ১৯৭৭-এর পর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকারে উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় মন্ত্রিত্ব পান তিনি। এরপর তাঁকে দায়িত্ব দেয়া হয় উপ-প্রধানমন্ত্রীর। বিএনপি’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন মওদুদ আহমদ। জিয়া নিহত হওয়ার পর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় এলে ১৯৮১ সালে তথ্যমন্ত্রী হন তিনি। এরপর কয়েক দফায় উপ-প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও পরে উপ-রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পান এই রাজনীতিবিদ। ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতন হলেও থেকে যান জাতীয় পার্টিতেই। পরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি’তে যোগ দেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্বও পালন করেন তিনি। শিল্প, পরিকল্পনা, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক, বিদ্যুৎ, পানি, রেল, সড়ক ও যোগাযোগ এবং টেলিযোগযোগ মন্ত্রণালয়ের মত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। অন্যদিকে, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিতও হয়েছেন তিনি। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ১৯৪০ সালের ২৪ মে ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান বাংলাদেশ) নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মাওলানা মমতাজ উদ্দিন আহমদ এবং মা বেগম আম্বিয়া খাতুন। ছয় ভাইবোনের মধ্যে মওদুদ আহমদ




Archives