প্রথমে শ্রদ্ধাঞ্জলি বর্তমান রাজনৈতিক সংকট এবং কমরেড মণি সিংহের শিক্ষা

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ৩১. ডিসেম্বর. ২০২০ | বৃহস্পতিবার

প্রথমে  শ্রদ্ধাঞ্জলি  বর্তমান রাজনৈতিক সংকট এবং কমরেড মণি সিংহের শিক্ষা

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

প্রথম সময় অনলাইন ডেস্ক:

বর্তমান রাজনৈতিক সংকট এবং কমরেড মণি সিংহের শিক্ষা
বামপন্থী নেতা মণি সিংহ বর্তমান রাজনৈতিক সংকট বাংলাদেশের সমাজজীবন এখনো নানা অমীমাংসিত দ্বন্দ্ব, সহিংসতা, সন্ত্রাস ও সংঘাতে ভরপুর। একদিকে রয়েছেন শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে আদর্শ–বিচ্যুত দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো। একটি দল মুক্তিযুদ্ধের শত্রুদের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট তৈরি করেছিল, একাধিক যুদ্ধাপরাধীকে মন্ত্রীও বানিয়েছিল। অপর দলটি ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি বিসর্জন দিয়ে রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে ইসলামকে গ্রহণ করে নিয়েছে। যদিও যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি দিয়েছে এবং বিচার অব্যাহত আছে, কিন্তু পাঠ্যপুস্তকের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র ধ্বংস করা হয়েছে এবং রাজনীতিতে ধর্মীয় শক্তিকে ‘বিভক্ত করো ও আপস করো’ এই কৌশল গ্রহণ করেছে। এই পিচ্ছিল পথে শেষ রক্ষা নয়, আম ও ছালা দুটোই হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমান রাজনীতিতে প্রধান যে সংকটটি মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে তা হচ্ছে গণতন্ত্রের সংকট। এমন একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে যেখানে সব মূল প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হবে এবং দল-মত-ধর্মনির্বিশেষে জনগণও নিজের ভোট পছন্দমতো প্রার্থীকে নির্বিঘ্নে দিতে পারবে। সেটার জন্য কর্তৃত্বপরায়ণতা ও প্রতিশোধবৃত্তি বাদ দিয়ে অন্যদের প্রতি শাসক দলের যেরকম সহনশীল আচরণ দরকার, সেটি না তৈরি হলে গণতন্ত্র ফিরে আসবে না। মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক ইস্যুতে ও দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্যও গঠন করা যাবে না।

সুতরাং এই রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এমন একটি উত্তরকালীন সমাধান খুঁজে বের করা, যাতে একই সঙ্গে গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের ন্যূনতম চেতনা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনা যাবে এবং রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জঙ্গি-সন্ত্রাসী মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলো এবং সামাজিক অঙ্গন থেকে ধর্মীয় উগ্রতাসহ সব ধরনের অসহনশীল, কুসংস্কারাচ্ছন্ন বা রাজনৈতিক স্বার্থ বিজড়িত অনুদার ব্যাখ্যাদাতাদের সাময়িক নেতিবাচক উত্থান রহিত ও পরাজিত করা যাবে। সেটা সম্ভব হলে আমরা রাজনীতি ও সমাজকে দৃশ্যমান মহাবিপদের হাত থেকে মুক্ত করতে পারব। কিন্তু সুশাসন ও গণতান্ত্রিক অধিকারের পরস্পর বিজড়িত নিশ্চয়তা ছাড়া এই বিজয় অর্জন সম্ভব হবে না।

এই বিশেষ সন্ধিক্ষণে গণতন্ত্র ও সুশাসনের প্রশ্নে কমরেড মণি সিংহের কাছ থেকে সাধারণভাবে জাতি এবং বিশেষভাবে তাঁর অনুসারী বামপন্থীরা কী শিক্ষা পেতে পারে, তা নিয়েই এই সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধে কিছু আলোচনা করব।

বিজ্ঞাপন

মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় ঐক্য প্রসঙ্গে মণি সিংহ

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কমরেড মণি সিংহ জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন সম্পর্কে কী বলেছিলেন? স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিলপত্রে কমরেড মণি সিংহ প্রদত্ত সাক্ষাৎকার থেকে এ বিষয়ে আমরা জানতে পারব। সেখান থেকে আমি এ প্রসঙ্গে কিছু উদ্ধৃতি নিচে তুলে ধরছি।

তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচন সম্পর্কে কমরেড মণি সিংহ তাঁর সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘নির্বাচনের ফলাফল মূল্যায়ন করে আমরা (বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি) আরও দেখেছিলাম যে আওয়ামী লীগ কেবল “পূর্ব-পাকিস্তানের” জনগণেরই সর্বাত্মক সমর্থন পায়নি, তৎকালীন পাকিস্তানের সরকার গঠনের অধিকার লাভ করেছে।…পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিগুলো এবং এই শাসকদের মদদদাতা সাম্রাজ্যবাদ কিছুতেই নির্বাচনের এই ফলাফল মেনে নিবে না এবং তা বানচাল করার ষড়যন্ত্র করবে।…এমতাবস্থায় বাংলাদেশ স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকেই অগ্রসর হবে এবং সে সংগ্রামের জন্য জনগণকে প্রস্তুত করা দরকার।’

পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সেদিকে এগিয়ে গেলে পাকিস্তানের দক্ষিণপন্থী প্রতিক্রিয়াশীল ধর্মভিত্তিক দল ও শক্তিগুলো পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করে। এই মুষ্টিমেয় অংশকে বাদ দিয়ে স্বাধীনতার প্রশ্নে ব্যাপক জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার প্রশ্ন ১৯৭১ সালে সামনে চলে আসে। তখন বামপন্থীদের মধ্যে দুটো মত বিরাজ করছিল; একটি মত ছিল আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতাসংগ্রামে অংশগ্রহণ করা; অপর মতটি মুক্তিযুদ্ধকে দেখছিল ‘দুই কুকুরের লড়াই’ হিসেবে।

এই দ্বিতীয় মতটি ‘পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী’ এবং ‘মুক্তিযোদ্ধাদের বাহিনী’ উভয়কেই সমশক্র জ্ঞান করে সমদূরত্বের নীতির পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছিল। বিভ্রান্ত চীনপন্থীদের বৃহৎ একটি অংশ তখন এই অবস্থান গ্রহণ করে। তবে কাজী জাফর ও রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বাধীন চীনপন্থী বামের আরেকটি ক্ষুদ্র অংশ স্বকীয় পৃথক অবস্থান বজায় রেখে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে লড়াই চালানোর কথাও বলেছিলেন




Archives