চাচার ‘পরিকল্পনায়’ ভাতিজা হত্যা, ইতালি ফেরা হলো না সাইমুমের

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ২০. ডিসেম্বর. ২০২০ | রবিবার

চাচার ‘পরিকল্পনায়’ ভাতিজা হত্যা, ইতালি ফেরা হলো না সাইমুমের

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরে সাইমুম (১১) নামে এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। জন্মসূত্রে ইতালির নাগরিক ছিল শিশু সাইমুম। প্রযুক্তির সহায়তায় সাইমুম অপহরণের সঙ্গে জড়িত সাতজনকে গ্রেফতার করেছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মিরপুর শাহআলী মার্কেটের ১৪ তলা থেকে ওই শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাজিরুর রহমান শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে সারাবাংলাকে বলেন, ‘গত ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মা রুপা বেগমের অভিযোগ পেয়ে শিশুটিকে খুঁজতে শুরু করে পুলিশ। ওই রাতেই মায়ের মোবাইল ফোনে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে কল আসে। কল আসা ওই নম্বর পরে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গতকাল রাতে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের তথ্যমতে, আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং আজ (১৯ ডিসেম্বর) সকাল নয়টার দিকে শাহআলী মার্কেটের ১৪ তলা থেকে সাইমুমের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আসামিরা স্বীকার করেছে ১৭ ডিসেম্বর অপহরণের পর শাহআলী মার্কেটে নেওয়ার পর ওইদিনই সন্ধ্যায় সাইমুমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে তারা। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ওই ছেলের ফুফাতো ভাইও আছেন। বাকিরা ফুফাত ভাইয়ের বন্ধু-বান্ধব। এই হত্যার সঙ্গে সাইমুমের আপন চাচা রনিও জড়িত। তিনি পলাতক রয়েছেন। গত তিন মাস ধরে সাইমুমকে হত্যার পরিকল্পনা করে তারা।’

বিজ্ঞাপন

হত্যার পর কেন মুক্তিপণ চেয়েছে?- জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘পুরো বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হয়নি এখনও।’

সাইমুমের মামা সাব্বির আহমেদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘সাইমুম জন্মসূত্রে ইতালির নাগরিক। জন্মের দুই বছর বাবা আনোয়ার হোসেন মারা যান। এরপর মা রুপা বেগম দেশে ফিরে কবির নামে একজনকে বিয়ে করেন। দুই বছর আগে সাইমুমকে নিয়ে মা বাংলাদেশে আসেন। সাইমুম মিরপুর বাংলা স্কুলে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মিরপুর ৬ নম্বরের এ ব্লকে মায়ের সঙ্গে থাকতো সাইমুম। তাকে হত্যা করায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে। কান্নায় পুরো এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে।’

বিজ্ঞাপন

সাইমুমের মামা বলেন, ‘১৭ ডিসেম্বর বিকেলে সাইমুম কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে মার্কেটে খেলছিল। ওই সময় তার ফুফাতো ভাই তাকে মোটরসাইকেলে করে ডেকে নিয়ে যায়। সাইমুমের বড় হয়ে ইতালি চলে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তাকে নিজের আত্মীয়রাই বড় হতে দিল না।’

মামা সাব্বির আরও বলেন, ‘মুক্তিপণ চাওয়ার পর দর কষাকষি হয়। ১৮ ডিসেম্বর দুপুরে মুক্তিপণ এক লাখ টাকা ঠিক হয়। তারা একবার বলে মোহাম্মদপুরে টাকা নেবে, আবার মিরপুর ১০ নম্বরে নেবে বলে জানায়। এরপর সন্ধ্যায় জানায় তারা সাক্ষাতে টাকা নেবে না। অপহরণকারীরা জানায়, তারা এক লাখ টাকা বিকাশে নেবে। পরে তিনটি বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে মোট ৬০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। টাকা পাঠানোর পরপরই তারা নম্বর বন্ধ করে দেয়। এরপর পুলিশ বিকাশের সূত্র ধরে সাতজনকে গ্রেফতার করে।’

বিজ্ঞাপন

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাইমুমের চাচা রনির সঙ্গে তার মায়ের বাড়ি ও সম্পত্তি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ঝামেলা চলছিল। এ নিয়ে মাঝে-মধ্যে হুমকি-ধামকিও দিতো ভবঘুরে রনি। আজ তার পরিণতি দেখালো। পরিবারের অভিযোগ, সাইমুমকে মেরে সম্পত্তির ভোগের পরিকল্পনা ছিল তাদের।

ময়নাতদন্ত শেষে সাইমুমের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ




Archives