হত্যাসহ একাধিক মামলা সোনাইমুড়ীতে রিক্সা মিস্ত্রীর বিয়ের ব্যবসা

প্রথম সময়: admin | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ১০. ডিসেম্বর. ২০১৭ | রবিবার

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন


মাহফুজুর রহমান, সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধিঃ নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে রিক্সা মিস্ত্রী মাজহারুল ইসলাম মঞ্জু একাধিক বিয়ে অল্প দিনে কোটিপতি বনে গেছেন। তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও যৌতুক আইন, হত্যা, প্রতারণাসহ বিভিন্ন থানায় ও কোর্টে একাধিক মামলা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা যায়, উপজেলার কালুয়াই গ্রামের হাসমত উল্যার ৩ ছেলে, ২ মেয়ের মধ্যে মাজহারুল ইসলাম মঞ্জু সেজ ছেলে। হাসমত উল্যার অভাব অনটনের সংসারে মঞ্জু মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ালেখা করে সোনাইমুড়ী ডিগ্রী কলেজ রোডে রিক্সা মেরামতের দোকান দেয়। সেখানে কলেজে ছাত্রীরা আসা-যাওয়ার সময় সে উত্যক্ত করত। স্থানীয় নদনা ইউনিয়নের বগাবাড়িয়া গ্রামের এক মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে অপকর্ম করার চেষ্টাকালে জনতার হাতে ধরা পড়ে কিছুদিন গা ঢাকা দেয়। ২০০২ সালে পৌর এলাকার শিমুলিয়া গ্রামের আবুল হোসেনের কন্যা আয়েশা আক্তার রুমির সাথে প্রেমের স¤পর্ক গড়ে তোলে । তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অন্যত্র নিয়ে নামে মাত্র কাবিন করে বিবাহ করে। পরে ঐ পরিবার বিবাহ মেনে নেয়। মঞ্জু রুমির পিত্রালয়ে ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে বসবাস শুরু করে। সেখানে বসবাস করা কালীন তার প্রবাসী পিতা ও ভাইয়ের বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা সে আÍসাৎ শুরু করে। এক পর্যায়ে ধাপে ধাপে মোট ২০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে সোনাইমুড়ী বাজারের বড় মসজিদ সংলগ্ন ফয়সাল সাইকেল পার্সের দোকান দেয়। তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার রুমি জানান, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রবাসীদের স্ত্রীদের সাথে মঞ্জু পরকীয়া প্রেম গড়ে তোলে। দীর্ঘদিন প্রেম করে সে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিত। সূত্রে আরো জানা যায়, ইতিপূর্বে উপজেলার কৌশল্যারবাগ গ্রামের জনৈক সাউথ আফ্রিকা প্রবাসীর স্ত্রী দেলোয়ারা বেগমের সাথে মঞ্জু পরকীয়া প্রেমের স¤পর্ক গড়ে তোলে। প্রেমের ফাঁদে ফেলে ঐ মহিলা থেকে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় এবং তাকে নিয়ে বিভিন্ন হোটেলে রাত্রী যাপন করে। পরে আপত্তিকর ছবি প্রকাশ হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পিড়াপীড়িতে ঐ মহিলাকে সে কোর্ট এফিডেভিটের মাধ্যমে বিবাহ করে।
উপজেলার নাওতোলা গ্রামের অবঃপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, বিগত ২০১৪ সালে মাজহারুল ইসলাম মঞ্জুকে সোনাইমুড়ী বাজারের এসহাক মিয়া সড়কে ভাড়া বাসায় আপত্তিকর অবস্থায় এক মহিলার সাথে তার ছেলে ৮ম শ্রেণী পড়–য়া মুজাহিদুল ইসলাম মোজাম্মেল দেখে ফেলে। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ঐ ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মোবাইল চুরির অভিযোগ এনে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফয়সাল সাইকেল পার্স দোকানের পিছনে নিয়ে আটক করে বেদম প্রহার করে হত্যা করে। হত্যার পর লাশটি গভীর রাতে সোনাইমুড়ী হামিদিয়া কামিল মাদরাসার পিছনে ফেলে রেখে চলে যায়। এ নিয়ে নিহতের পিতা হত্যার অভিযোগ এনে কোর্টে মাজহারুল ইসলাম মঞ্জু ও তার ২ সহোদরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। মামলাটি বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। এছাড়াও মাজহারুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিমুলিয়া গ্রামের কাউন্সিলর ইসমাইল হোসেন মোল্লাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। এ বিষয়ে মাজহারুল ইসলাম মঞ্জুর বক্তব্য নিতে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। সোনাইমুড়ী থানার ওসি ইসমাইল মিঞা জানান, মাজহারুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে সোনাইমুড়ী থানায় হত্যা, নারী-শিশু নির্যাতন ও যৌতুক আইনে ২টি মামলা রয়েছে। উপজেলার কৌশল্যারবাগ গ্রামের কাউন্সিলর সামছুল আরেফিন জাফর জানান, তার বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে কয়েকবার সালিশ বৈঠক করেছি।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪২৭ বার




Archives