চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক সমস্যা ও আবাসন বাণিজ্য “

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ০৮. ফেব্রুয়ারি. ২০১৮ | বৃহস্পতিবার

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

Shamsun Nahar Hall at University of Chittagong

মিথিলা মজুমদার: পাহাড় ঘেরা সবুজের সমারোহে অনন্য এক উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। স্বপ্নের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গর্বিত শিক্ষার্থী হওয়ার স্বপ্ন থাকাটাই স্বাভাবিক। সীমিত আসনে প্রতিযোগীতা করে যারা ভর্তি হতে পারে তারাই সৌভাগ্যবান।
চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ২২ কিলো মিটার দুরে হওয়ায় এবং প্রয়োজনের তুলনায় ছাত্র ছাত্রীদের আবাসিক হলের সংখ্যা কম থাকার কারনে শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয় প্রতিনিয়ত। এখানে প্রায় ১৫ হাজার ছাত্রের জন্য ৮ টি এবং ৯ হাজার ছাত্রীর জন্য রয়েছে ৪ টি হল। যাহা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। তাই অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে বিশেষ করে শহরে থাকতে হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শার্টল ট্রেনে প্রায় সময় বাদুর জোলা জুলে ক্যাম্পাসে আসা যাওয়া করতে হয়। শহর থেকে মেয়েদের আসা যাওয়া যেমন কষ্টের আবার মেয়েদের থাকার মতো ভাল ব্যবস্থাও নেই। তাই অধিকাংশ মেয়ে হলে সীট না পেয়ে ক্যাম্পাসে ব্যক্তি মালিকানাধীন আবাসিক ভবনে তিনগুণ চারগুণ বেশী সীট ভাড়া নিয়ে থাকতে বাধ্য হয়। সেখানে রয়েছে নানা অব্যবস্থাপনা ও বাড়ীর মালিকদের যথেচ্ছা স্বেচ্ছাচারিতা। এক্ষেত্রে ছাত্রীদের আর্থিক এবং মানসিক দুর্ভোগ অবর্ণনীয়। ইচ্ছে মতো সীটে উঠাও যায় না আবার ছাড়াও যায় না। আমি (প্রতিবেদক) দক্ষিণ ক্যাম্পাসের একটি আবাসিক ভবনে ( কামাল ভবন) তিন হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে মাসে ২৩০০/ টাকা হারে( ৯ফুট বাই ১১ ফুট রুমে ৩ জন) একটি সীট ভাড়া নিই। আমাদের রুমে এটাস বার্থ রুম আছে তাই মালিকের নির্দেশ দিন রাত ২৪ ঘন্টা রুমের দরজা খোলা রাখতে হবে।কারন অন্য রুমের বিশেষ করে ড্রয়িং রুমে যে ৪/৫ জন মেয়ে আছে তারা দিন এবং রাতেও আমাদের বার্থ রুম ব্যবহার করে। দর্শন বিভাগের ছাত্রী রাফি এর প্রতিবাদ করায় সে চলে যেতে হলো রুম ছেড়ে। আমি নিয়ম অনুযায়ী রুম ছাড়ার ৪৫ দিন আগে মালিককে জানানোর কথা থাকলেও দুই মাস( ৬০ দিন) আগে জানালেও আমাকে তাদের ইচ্ছে মতো সীট ছেড়ে দিতে হয় এবং প্রদেয় অগ্রীম ও পুরোটা পাই নি। ভাগ্য ভালো যে আমার কলেজ জীবনের বন্ধু চ,বি,র কম্পিউটার সাইন্সের ছাত্রী পিউ এবং আমার সহপাঠী আসমার সহযোগীতায় অন্যত্র থাকার ব্যবস্থা করে নিলাম। তবে বর্তমান বাসার মালিক কে আগের বাসার মালিকের তুলনায় অনেক বেশী ভালো এবং মানবিক বলে মনে হচ্ছে।
আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উদাহরনের মাধ্যমে আমি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি কর্তৃপক্ষ যেন সাধ্য মতো শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে ছাত্রীদের আবাসিক সমস্যার বিষয়ে আরো সজাগ হন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪৯৫ বার







Archives