আমি কিন্তু সত্যি মারা যাচ্ছি’তোর মত মেয়ে মরা ভাল প্রেমিককে এসএমএস দিয়ে কলেজছাত্রীর ফাঁষ।

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ০৫. সেপ্টেম্বর. ২০১৯ | বৃহস্পতিবার

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

নাটোর প্রতিনিধি;

 

‘আমি কিন্তু সত্যি মারা যাচ্ছি’ এমন এসএমএস এর জবাবে তার প্রেমিক রোকন সরকারের জবাব ‘তোর মতো মেয়ের মরাই ভাল। তুই মর। যে ভাবেই পারিস মর। তোর মত খারাপ মেয়ের বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়ায় ভাল।’ এমন কথোপোকথন শেষে গলায় ফাঁষ। একটু  ভাল কথা যদি প্রেমিক লিখতোতাহলে একটি  প্রান  না ফিরার দেশে যেত না সামাজিকতার অভাব বলেই হচ্ছে এ সব ঘটনা।

গলায় ফাঁষ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে নাটোরের বাগাতিপাড়ার কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা সোনালী (১৭)। সুলতানা সোনালী বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের মালিগাছা সাজিপাড়া গ্রামের সুমন রেজার মেয়ে। লোকমানপুর মহাবিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিল সে।

গত  বুধবার সকালে সোনালীর বাড়ির একটি কক্ষের তীরের সাথে ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করে। সোনালীর আত্মহত্যার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার ‘প্রেমিক’ রোকন সরকার গাঢাকা দিয়েছে। রোকন সরকার লোকমানপুর মহাবিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র।

এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে রোকন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ জানায়, উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের মালিগাছা সাজি পাড়া গ্রামের সুমন রেজার মেয়ে সোনালীর সাথে একই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র রোকন সরকারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল অনেক দিন ধরে। প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে দু’জনের মধ্যে মনোমালিন্য হয়।

বুধবার রাতে রোকনের সাথে মোবাইল ফোনে সোনালীর এ সংক্রান্ত বার্তা বিনিময় হয়। দীর্ঘ সময় ধরে বার্তা বিনিময়ের এক পর্যায়ে রাত ১টা ৩ মিনিটে সোনালী ‘আমি কিন্তু সত্যিই মরে যাচ্ছি’ লিখে রোকনকে মোবাইল ফোনে সর্বশেষ বার্তা দেয়। এরপর রাতের কোনো এক সময় ওড়না পেঁচিয়ে নিজের ঘরে তীরের সাথে গলায় ফাঁস দেয়।

সকালে তার বোন ঘুম থেকে উঠে দেখতে পায় তার বোন গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলছে।

পুলিশ নিহত সোনালীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করেছে। সেখান থেকে রোকন সরকারের সাথে বার্তা আদান প্রদান পায় পুলিশ।

এ বিষয়ে নিহত সোনালীর বাবা সুমন রেজা জানান, তিনি পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেডে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে এবং তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন একই ইপিজেডে একটি কোম্পানীর গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে চাকুরি করেন। সে কারণে তারা দুজনেই বাড়িতে থাকেন না।

ঘটনার রাতে দুই মেয়ে সোনালী ও স্বর্ণা বাড়িতে ছিল। মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বুধবার সকালে তারা দু’জনে বাড়িতে আসেন।

তিনি অভিযোগ করেন, রোকন নামের ছেলেটা তার মেয়েকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম শেখ বলেন, খবর পেয়ে তিনি এবং নাটোর সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু হাসনাত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের মোবাইল ফোন থেকে বেশ কিছু স্ক্রিনশট আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৫ বার




Archives