নুসরাত হত্যা: লোমহর্ষক বর্ণনা বেরিয়ে এল তদন্ত রিপোর্টে, ১৬ জন অভিযুক্ত।

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ২৯. মে. ২০১৯ | বুধবার

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

প্রথম সময় প্রতিবেদক :

 

 

 দেশজুড়ে আলোচিত ঘটনা নুুুসরাাত।যাার শরীরের শতকরা ৮০ ভাগ পোড়া অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসার পর গত ১০ই এপ্রিল মৃত্যু হয় ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহানের। এর আগে মার্চের ২৭ তারিখে ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এক মামলা করেছিল নিহত নুসরাতের পরিবার। সেদিনই অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এই ঘটনারই জের ধরে ৬ই এপ্রিল মাদ্রাসার ভেতরের পরীক্ষার হল থেকে ডেকে ছাদে নিয়ে গিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় কয়েকজন।

এ ঘটনা তদন্তের পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই বলছে, পুরো ঘটনা উদঘাটন করেছেন তারা।

পিবিআই উপ-মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার আজ ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলছেন, “মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজদ্দৌলা মূল আসামী। তিনি সহ মোট ১৬ জনের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে ৭২২ পৃষ্ঠার চার্জশিট কাল [বুধবার] আদালতে দেয়া হবে।”

তিনি বলেন, “নুসরাত হত্যার পুরো দায় ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজদ্দৌলার, যিনি নুসরাতের যৌন হয়রানির মামলায় আগেই কারাগারে ছিলেন।”

“তার নির্দেশেই সব হয়েছে এবং ১৬ জন এ ঘটনায় জড়িত। এর মধ্যে হত্যার দায় স্বীকার করে ১২ জন আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে।”

নুসরাতের অবস্থার করুণ বর্ণনা

শরীরে আগুন লাগিয়ে দেয়ার পর নুসরাত জাহান উদ্ধারের আগ পর্যন্ত অবস্থার করুণ ও বীভৎস অবস্থা উঠে এসেছে পিবিআইয়ের তদন্তে।

মিস্টার মজুমদার বলছেন, “ওইদিন পরীক্ষা ছিল, লোকজন সেভাবে ছিল না। মেইন গেটে দারোয়ান ও পুলিশ ছিলো। যে সাইক্লোন সেন্টারের ঘটনা তার গেইট আবার মাঠের মধ্যে উল্টো দিকে।”

অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় অনেকে নুসরাতকে চিৎকার করতে দেখেছে বলে পুলিশ জানায়।

পরে আয়া, বাংলা শিক্ষক, দারোয়ান ও পুলিশ কনস্টেবল সোহেল এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

“যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের তিন জন পরীক্ষার্থী ছিল ও তারা পরীক্ষা দিতে চলে গেছে। আমরা বুঝতেও পারিনি যে ঘটনা ঘটিয়ে তারা পরীক্ষা দিতে গেছে।”

তিনি বলেন, ১১ই এপ্রিল কাউন্সিলর মাকসুদ আলমকে গ্রেফতারের পর ১৩ তারিখেই তারা জানিয়েছিলেন যে এটি ছিল একটি খুন। ১৬ জনকেই বিভিন্ন দফায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বেশি তিন দফায় রিমান্ডে ছিল শাহাদত হোসেন শামীম

নুসরাত জাহান সপ্তাহ দুয়েক আগেও ছিলেন আর পৌর শহরের স্কুল বা মাদ্রাসাপড়ুয়া আর দশজন সাধারণ মেয়ের একজন- কিন্তু শিক্ষকের দ্বারা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এবং মাদ্রাসার ভেতরে তার গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়ার ঘটনা নাড়া দিয়েছে সারাদেশে।

বাংলাদেশে যেখানে শহরাঞ্চলেও যৌন নির্যাতনের অনেক অভিযোগ লোকলজ্জার ভয়ে লুকিয়ে রাখার কথা শোনা যায়, সেখানে মফস্বল শহর এবং রক্ষণশীল পরিবার থেকে আসা এই মেয়েটি তার অভিযোগ নিয়ে আদালত পর্যন্ত গিয়েছেন।

শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হবার পর ঢাকায় নিয়ে আসার পথে তার ভাইয়ের মোবাইলে রেকর্ড করা এক অডিওতে তাকে বলতে শোনা গেছে- “শিক্ষক আমার গায়ে হাত দিয়েছে, শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত আমি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো”।

ফেনীর সোনাগাজীর অগ্নিদগ্ধ মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান মারা যাওয়ার পরে বাংলাদেশে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ওই ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকায় সমাবেশ হয়েছে, শুক্রবারও মানববন্ধন করার কথা রয়েছে।

তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল এবং তার শরীরের ৮০ শতাংশই আগুনে পুড়ে গিয়েছিল বলে চিকিৎসকরা এর আগে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছিলেন। বুধবার রাতে তিনি মারা যান।

গত শনিবার সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে কৌশলে ঐ মেয়েটিকে ছাদে ডেকে নিয়ে গিয়ে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

ছাত্রীটির ভাই বিবিসি বাংলাকে বলেন, তার বোন কয়েকদিন আগে তার মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা করেছিল, সেই ঘটনার জেরে ওই অধ্যক্ষের পক্ষের শিক্ষার্থীরা তার বোনকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছে।

এরপর থেকে বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যমের বেশিরভাগ ব্যবহারকারী এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করছেন।

কিন্তু এই মৃত্যু কি যৌন হয়রানি বন্ধে মানুষের মনোভাব বদলাতে পারবে

 

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৮৮ বার




Archives