নারীদের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে প্রয়োগ করুন

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ১০. মার্চ. ২০১৯ | রবিবার

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

প্রথম সময় ডেস্কঃ

বাংলাদেশ সরকার নারীর ক্ষমতায়নে সমাজের সর্বস্তরের পুরুষের পাশাপাশি তাদের সম-অধিকার নিশ্চিত করেছে—উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের নারীসমাজকে নিজের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে নিজেদেরই সক্ষমতা অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যদিও ক্ষমতা দিয়েছি (স্থানীয় সরকারে) তবু তাঁরা সব জায়গায় ক্ষমতাটি প্রয়োগ করতে পারেন

সরকার নারীর ক্ষমতায়নে সমাজের সর্বস্তরের পুরুষের পাশাপাশি তাদের সম-অধিকার নিশ্চিত করেছে—উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের নারীসমাজকে নিজের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে নিজেদেরই সক্ষমতা অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যদিও ক্ষমতা দিয়েছি (স্থানীয় সরকারে) তবু তাঁরা সব জায়গায় ক্ষমতাটি প্রয়োগ করতে পারেন না।

যাঁরা দায়িত্বে আছেন (স্থানীয় সরকারে) তাঁদের নিজেদের ক্ষমতাটা নিজেদের অর্জন করে নিতে হবে। কেউ (ক্ষমতা) কখনো হাতে তুলে দেয় না, এটা হলো বাস্তবতা। ’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে নারী দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার আইনে আমরা এক-তৃতীয়াংশ নারী আসনের ব্যবস্থা করেছি। ইউনিয়ন এবং উপজেলাসহ সব জায়গায়

একজন চেয়ারম্যানের সঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যানের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। ’

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইউএনডিপির প্রতিনিধি মিয়া সেপো বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি কথা মনে রাখত হবে, শুধু আইন করলেই নারীর প্রতি সহিংসতা এবং বৈষম্য দূর হবে না। এ জন্য সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করা একান্তভাবে দরকার।

ক্ষেত্রে আমাদের সবার মা-বোনেরা যেখানে যাঁরা আছেন সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। ’

তিনি বলেন, একটি সমাজকে যদি গড়ে তুলতে হয় আর সেই সমাজের যেখানে অর্ধেকই নারী, তাদের বাদ রেখে একটি সমাজ কখনো গড়ে উঠতে পারে না। কাজেই সে ক্ষেত্রে সবাইকে এক হয়ে কাজ করা—এটাই সব থেকে বেশি প্রয়োজন।

শিশু এবং নারী ধর্ষণকে অত্যন্ত গর্হিত একটি অপরাধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ সময় ধর্ষিতা নারীর পরিচয় গোপন রেখে ধর্ষককে সমাজের সবার কাছে তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘যারা (ধর্ষণ) করে তাদের প্রতি ঘৃণা এবং আমি বলব তাদের নাম-পরিচয় ভালোভাবে প্রচার করা কর্তব্য, যাতে করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ তাকে ঘৃণার চোখে দেখে। তা ছাড়া আইনগত ব্যবস্থা তো তাদের বিরুদ্ধে নেয়া হবেই। ’ এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে তাঁর সরকার মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘এটা কেবল বাংলাদেশের সমস্যা নয়, উন্নত সভ্য দেশেও এ সমস্যা রয়েছে। কাজেই এর বিরুদ্ধে আরো জনমত সৃষ্টি করা দরকার। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কন্যাশিশুরা যেন কোনোভাবেই বৈষম্যের শিকার না হয় সেই সচেতনতাটা আমাদের সমাজে এরই মধ্যে এসে গেছে। আর আমি এটাই মনে করি, সমাজকে গড়ে তুলতে হলে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবারই একান্তভাবে কাজ করা দরকার। ’

‘বিশ্বে যা কিছু সৃষ্টি চিরকল্যাণকর, অর্ধেক তার আনিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর,’—কাজী নজরুলের কবিতার এই পঙিক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যে সম-অধিকার সেই অধিকারের কথা তিনি স্পষ্টভাবে বলে গেছেন। কাজেই সমাজ ও দেশকে কল্যাণময় করতে হলে নারী-পুরুষের একসঙ্গে কাজ করাটা জরুরি। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মেয়েরা এখন সব জায়গায় এগিয়ে গেছে। চাকরি-বাকরি, খেলাধুলা সব ক্ষেত্রে তারা এগিয়ে। এমনকি আমাদের মেয়েরা এভারেস্টও জয় করে ফেলেছে। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীতে এখন অনেক নারী কাজ করেন। এমনিতে নারী পাইলট আছেন। আগামী দিনে নারীরা বিমানবাহিনীতে ফাইটার জেট চালাবে। ’

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তিনিই সেনাবাহিনীতে প্রথম নারীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ ছাড়া আমি প্রথম কয়েকজন নারীকে সচিবের পদমর্যাদা দেই। ’

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, জাতির পিতা নারীদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা প্রথম যে সংবিধান দিলেন সেখানে তিনি মেয়েদের জন্য সংরক্ষিত নারী আসন দেন। তিনি মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করে দিয়েছিলেন এবং তিনি বিশ্বাস করতেন, ‘একজন মেয়ে যদি অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীনতা অর্জন করে তাহলে সমাজে তার ভালো অবস্থান হয়। ’ ‘আগে জুডিশিয়াল সার্ভিসে কোনো নারীর চাকরির সুযোগ ছিল না। বঙ্গবন্ধু এই আইন বাতিল করে দিয়েছেন’ উল্লেখ করে সরকারপ্রধান নাজমুন আরাকে জেলা জজের পদ থেকে হাইকোর্টে পদায়ন করার তথ্যও জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জেলা ডিসি, এসপির পদে মেয়েদের বাধা ছিল। এরপর আমি যাঁকে প্রথম নারী এসপি করে মুন্সীগঞ্জে আনলাম। তিনি দায়িত্ব নিয়েই ডাকাত ধরে ফেললেন। তাঁর এ কাজের সঙ্গে আমিও জয়ী হয়ে গেলাম। ’ নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং পারিবারিক সহিংসতা থেকে সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে তাঁর সরকার কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ‘পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০ এবং পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) বিধিমালা-২০১৩ প্রণয়ন করেছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি এ সময় নারী নির্যাতন প্রতিরোধে তাঁর সরকারের ডিএনএ আইন-২০১৪, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭, যৌতুক নিরোধ আইন-২০১৮ প্রণয়ন এবং একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭-এর সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯ এর তফসিলভুক্তকরণের উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে এ সময় সারা দেশের নারী উন্নয়নে তাঁর সরকারের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন। শিক্ষা, খেলাধুলা, পেশাগত কাজ, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নারীদের সফলতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাঁর অর্জিত ‘লাইফ টাইম কন্ট্রিবিউশন ফর উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট’ অ্যাওয়ার্ড দেশের মানুষ এবং বিশ্বের নির্যাতিত নারীদের উৎসর্গ করেন। তিনি বলেন, ‘এ অ্যাওয়ার্ড আমার নয়, এটা দেশের মানুষের। আমি যে অ্যাওয়ার্ডই পাই না কেন তার ভাগিদার এ দেশের মানুষ। ’

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘লাইফ টাইম কন্ট্রিবিউশন ফর উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ৭ মার্চ বার্লিনে সিটি কিউব আইটিবি প্রাঙ্গণে ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান উইমেন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে এ পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়। জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এ পদক গ্রহণ করেন। নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদান এবং দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে নেতৃত্বের জন্য এ পদক অর্জন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ দিনের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রেখে ‘জয়িতা’ পদক বিজয়ীদের হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। সূত্র : বাসস।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৯৭ বার







Archives