বিএনপির ভরাডুবি ৭ কারণে, ব্যাখ্যা প্রধানমন্ত্রীর

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ০১. জানুয়ারি. ২০১৯ | মঙ্গলবার

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

প্রথময় সময় নিউজ:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শোচনীয় পরাজয়ের পেছনে অন্তত ৭টি কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার সন্ধ্যায় গণভবনে বিদেশি সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের কাছে তিনি এসব কারণ ছাড়াও তার দলের নিরঙ্কুশ জয় ও সরকারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম ও সদস্য ড. গওহর রিজভী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকরা নির্বাচনে বিএনপির মাত্র সাতটি আসন পাওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে প্রশ্ন করেন।

শেখ হাসিনা এই প্রশ্নের জবাব দেয়ার পাশাপাশি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়ের কারণগুলোও তুলে ধরেন। নিচে সেগুলো দেয়া হলো—

১. প্রধান কে, স্পষ্ট করেনি বিএনপি

এ বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচনে বিএনপি ৭টি আসন পেয়েছে, তাদের নিজেদের কারণে। নির্বাচনে অংশ নিলেও তাদের প্রধান কে হবেন, তা তারা দেখাতে পারেনি।’

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দিকে তাকালে আপনারা দেখবেন— বিরোধী কংগ্রেসও গত নির্বাচনের আগে দেখাতে পারেনি, তাদের প্রধান কে হবেন? তারা মানুষকে ওইভাবে আকৃষ্ট করতে পারেনি। বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের ক্ষেত্রেও তাই-ই হয়েছে

২. মানবতাবিরোধীদের প্রার্থী করা

বিএনপি জোটের পরাজয়ের কারণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা (বিএনপি) তাদের জোটে মানবতাবিরোধীদের মনোনয়ন দিয়েছে। একাত্তরে মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য জামায়াত ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেই দলের ২৫ জনকে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট মনোনয়ন দিয়েছে। এজন্য মানুষ নির্বাচনে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।’

৩. দুর্নীতি-সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপির প্রথমসারির নেতারা (মূল লিডাররা) দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের দায়ে অভিযুক্ত। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে আদালতে রায়ও হয়েছে। ফলে এ ধরনের দলের নেতাদের সাধারণ মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করেছেন।’

৪. মূল নেতৃত্বের অভাব

সরকারপ্রধান বলেন, বিএনপির নেতৃত্বে থাকা দু’জনের একজন কারাগারে (চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া)। অন্যজন পলাতক (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান)। সুতরাং তাদের মূল নেতৃত্বের অভাব ছিল। পরাজয়ের এটিও একটি কারণ।

৫. মনোনয়ন বাণিজ্যে বঞ্চিত যোগ্যরা

নির্বাচন ঘিরে মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিএনপির অব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি এবার ব্যাপক মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে। তারা টাকার বিনিময়ে অর্থাৎ যে টাকা বেশি দিয়েছে, তাকেই মনোনয়ন দিয়েছে। যোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন না দেয়ায় দলটি থেকে ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

৬. একাধিক প্রার্থী নিয়ে মাঠ পর্যায়ে দ্বিধা

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বিএনপি এবার একেকটা আসনে তিন থেকে পাঁচজনকে পর্যন্ত মনোনয়ন দিয়েছে। এতে করে কেউই শেষ পর্যন্ত আর ওইভাবে মাঠে কাজ করেনি। কে, কি করবেন, আর করবে না, তা নিয়ে প্রার্থীরা যেমন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলেন, মাঠ পর্যায়ের কর্মীরাও দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন, যার প্রভাব নির্বাচনে পড়েছে।

৭. ড. কামালের দুর্বল নেতৃত্ব

বঙ্গবন্ধুকন্যা বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব গুণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। বলেছেন, নির্বাচন হলে মানুষ চিন্তা করে কে প্রধানমন্ত্রী হবে? কিন্তু, ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের দিন পর্যন্তও কাউকে সেভাবে জাতির সামনে দেখাতে পারেনি। ফলে তারা ওইভাবে ভোটারদের আকর্ষণ করেতে পারেনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আইনজীবী হিসেবে কামাল হোসেন খুবই ভালো। কিন্তু, তিনি যখন তার দল গণফোরাম প্রতিষ্ঠা করেন, তখন থেকেই তার নির্বাচন পরিচালনা করার ভালো অভিজ্ঞতা নেই, জেতারও কোনো অভিজ্ঞতা নেই।’

এ ছাড়া বিদেশিদের সামনে বঙ্গবন্ধুকন্যা বিএনপি আমলে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ৬৩ জেলায় একযোগে সিরিজ বোমা হামলার কারণে মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিস্মিত হয়ে লক্ষ্য করেছি— তারা (বিএনপি-জামায়াত ও ঐক্যফ্রন্ট) নির্বাচনী কোনো কাজ করেনি। কয়েকজনের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেলেও অনেকেই অ্যাক্টিভিটি না করে প্রপাগান্ডা ছাড়া সে রকম কিছু করেনি।’

সভায় নির্বাচন ও জয় পাওয়ার বিভিন্ন দিকও তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘এই নির্বাচনটা খুবই শান্তিপূর্ণ হয়েছে। এর আগে কখনও এতটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়নি। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা খুবই খারাপ।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে আমাদের জনগণ অবাধে ও ভীতিহীনভাবে ভোট দিতে পেরেছে। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়েছে নির্বাচনে। এতে আমাদের দলের কিছু কর্মীও মারা গেছে। এজন্য আমরা দুঃখ ও সমবেদনা প্রকাশ করছি।’

এ সময় আওয়ামী লীগ আমলে দেশের বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা দেশজুড়ে অবকাঠামো, কর্মসংস্থান ছাড়াও ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। বিগত বছরগুলোতে মানুষ অধিকতর ভালো জীবন-যাপন করেছে। এজন্য তারা আমাদের ভোট দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সময়ে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষার প্রসার, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নসহ বিভিন্ন সুবিধা মানুষ ভোগ করেছে। এজন্য তরুণরাও আকৃষ্ট হয়ে আমাদের ভোট দিয়েছে।’

গণতন্ত্র ও নির্বাচনের নানা বিষয় তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নির্বাচনী ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য নির্বাচন কমিশনকে একটি সাংবিধানিক সংস্থায় পরিণত করা হয়েছে। তাছাড়া নির্বাচনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র অগ্রসর হচ্ছে। অতীতে মিলিটারি ডিক্টেটররা ক্ষমতায় বসেছে। বিএনপির জন্ম ক্যান্টনমেন্ট থেকে। আমি-ই একমাত্র ব্যক্তি যে কি না ক্যান্টনমেন্ট থেকে না এসে দেশ পরিচালনা করছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘গণতন্ত্র ছাড়া কোনো দেশ উন্নতি করতে পারেনি। আমি সব সময়-ই চিন্তা করেছি, জনগণ ভোট দিলে (ক্ষমতায়) থাকব, অন্যথায় থাকব না।’

বিরোধীদের নিরাপত্তা বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি যখন প্রধানমন্ত্রী হই তখন সকল মানুষই প্রধানমন্ত্রী। সবাইকে সুরক্ষা দেয়া আমরা দায়িত্ব। ভোটের অধিকার মানুষের, ভোট দেয়ার সময় মানুষ যাকে ইচ্ছা, তাকে দেবে। কিন্তু

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২২৩ বার




Archives