রবিবার , ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং , ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ




ফজর পড়েই ভোটের লাইনে দাঁড়াতে খালেদার অনুরোধ: রিজভী

প্রথম সময়: ডেস্ক নিউজ | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ২৯. ডিসেম্বর. ২০১৮ | শনিবার

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

প্রথম সময় ডেস্ক:

 

আগের দিন বিকেল থেকেই ভোট কেন্দ্র পাহারা এবং রোববার ফজরের নামাজ পড়ে ভোটের লাইনে দাঁড়ানোর জন্য সবার প্রতি অুনরোধ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

 

কারাগার থেকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি এই অনুরোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শনিবার দুপুরে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান। তবে কার মাধ্যমে খালেদা জিয়া কারাগার থেকে এই বার্তা পাঠিয়েছেন, তা রিজভী উল্লেখ করেননি।

রিজভী বলেন, ‘সাধারণ ভোটার, ধানের শীষের সমর্থক ও নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী দুঃশাসনবিরোধী বার্তা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন— আগামীকাল (রোবার) আপনাদের সুযোগ আসবে স্বৈরশাসকদের হাত থেকে মুক্তি লাভের। দেশকে মুক্ত করার। সকল হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি উপেক্ষা করে দলে দলে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। আপনাদের এক একটি ভোট নিশ্চিত করতে পারে জনগণের মুক্তি ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। ফলাফল না নিয়ে আপনারা ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করবেন না।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আপনারা ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়ার মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করবেন। আজ (শনিবার) বিকেল থেকেই পালাক্রমে ভোট কেন্দ্র পাহারা দিবেন। ফজরের নামাজ পড়েই ভোটের লাইনে দাঁড়ানোর জন্য আপনাদেরকে অনুরোধ করছি। ভোট শুরুর আগে ব্যালট বাক্স পরীক্ষা করবেন। ভোট দিয়ে কেন্দ্রের আশপাশে থাকবেন। আপনারা শুধু সাধারণ ভোটারই নন, ভোটারদের অতন্দ্র প্রহরী। ভোট গ্রহণ শেষে ভোট গণনা করে কে কত ভোট পেল, তা নিশ্চিত না হয়ে সাদা কাগজে সই করবেন না। কোনো অবস্থাতেই প্রিজাইডিং অফিসারের সই ছাড়া কোনো কাগজে সই করবেন না। ফলাফল নিয়ে প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যাবেন।’

রিজভী বলেন, ‘রাত পোহালেই নির্বাচন। অঙ্গীকার, প্রতিশ্রুতি বরখেলাপ করে জনগণের সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে বিশ্বাসঘাতকতা করে ক্ষমতাসীনরা জবরদস্তিমূলকভাবে ক্ষমতা দখল করে আছে। আর এজন্য তাদের সামনের বাধাগুলো সরিয়ে দিতে দ্বিধা করেনি। প্রথমে তারা সবচেয়ে বড় বাধা মনে করেছে ‘গণতন্ত্রের মা’ খালেদা জিয়াকে। তাকে অন্যায়ভাবে বন্দি করা হয়েছে। বন্দি করে এখন নানাভাবে জুলুম করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তখনই বলেছিলাম— নির্দোষ খালেদা জিয়াকে কারান্তরীণ করা ছিল একতরফা নির্বাচনের পূর্বাভাস। তার বিপুল জনপ্রিয়তাকেই ভয় পেয়েছে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী। সেজন্যই নির্বাচনী মাঠে মোকাবেলা করার সাহস না পেয়ে তাকে বন্দি করা হয়েছে। বন্দি করার পর তিনি জনগণের কাছে ‘গণতন্ত্রের মা’ হিসেবে সমাদৃত হচ্ছেন। আর এতেই সরকার আরও হিংস্র হয়ে উঠে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর চালাচ্ছে ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুরতা।’

রিজভী বলেন, ‘২০০৯ সালের পর থেকে শুধু বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার আহাজারী নয়, অবৈধ শাসকগোষ্ঠী গোটা দেশটাকেই অনাচার-অবিচার-লুণ্ঠনের অভয়ারণ্য করে তুলেছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘আগামীকালের নির্বাচন নিয়ে অবৈধ শাসকগোষ্ঠী নানা কায়দা-কানুন ও পরিকল্পনা করছে। তারা ময়ূরের সিংহাসন থেকে ছিটকে পড়ার ভয়ে এই কয়েকদিন রক্তাক্ত হামলায় সারা দেশকে আতঙ্কের জনপদে পরিণত করেছে। বিএনপির মিছিল ও নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা-ভাংচুর চালানোসহ সহিংস আক্রমণে তাদের রক্ত ঝরাচ্ছে। আগের রাতে ব্যালটে নৌকা মার্কায় সিল মেরে রাখার পরিকল্পনাসহ নানামুখী নীলনকশা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা চলছে। গতকাল শুক্রবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ থাকলেও আওয়ামী ক্যাডাররা বিভিন্ন নির্বাচনী আসনে মোটরসাইকেল মহড়া দিচ্ছে। আর চলছে বিরামহীন পুলিশি হয়রানি, মামলা দায়ের ও গ্রেফতার। তবুও ভোটার, ধানের শীষের সমর্থকদের দলের পক্ষ থেকে আহ্বান জানাব, আগামীকাল (রোববার) আলো আসবেই।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে ধানের শীষের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের বলতে চাই— সব প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে ভোট কেন্দ্রে যেতে হবে

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫২ বার







Archives

Translate »