একটি ভাষণ, একটি স্বাধীনতার স্তম্ভ

প্রথম সময়: admin | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : 05. March. 2018 | Monday

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

ইরানী বিশ্বাস : একটি ভাষণ, একটি স্বাধীনতার স্তম্ভ। একটি দেশ, একটি স্তম্ভ। তিনি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। মার্চ মানে বাংলাদেশের সূচনা। মার্চ মানে ঐতিহাসিক ঘটনা। সময় সামনে এগিয়ে যায়। তবুও বারে বারে ফিরে তাকাতে ইচ্ছে হয় পিছনে। আমরা কি রেখে এসেছি পিছনের দিনে। কিছু অতীত জীবনকে কষ্টে পোড়ায়। কিছু অতীত হয় কষ্টে পোড়া হীরক খচিত। তাই সময়ের ভাঁজে রেখে যাওয়া অতীতে ফিরে যেতে বড় ভাল লাগে। কি ছিল সেই অতীত সময়ে। একটু ফিরে দেখি।
৬ জানুয়ারী ১৯৭০ সাল। পুনরায় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচিত হন। ৭ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচনে জননেতা শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ জাতীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়।
১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারী রেসকোর্সের জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জনপ্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণ পরিচালনা করেন। ১৫ ফ্রেব্রুয়ারী ভুট্টো ঢাকায় জাতীয় পরিষদের বৈঠক বয়কটের ঘোষনা দিয়ে দুই প্রদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ দুই দলকেই ক্ষমতা হস্তান্তর করার দাবি জানান। এর প্রতিবাদ জানিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী শেখ মুজিবুর রহমান বিবৃতি দেন, ক্ষমতা একমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামীলীগের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। ক্ষমতার মালিক এখন পূর্ব বাংলার জনগণ। এর ধারাবাহিকতায় ১ মার্চ ইয়াহিয়া খান অনির্দিষ্টকালের জন্য জাতীয় পরিষদের বৈঠক স্থগিতের ঘোষনা দিলে সারা বাংলায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু হরতাল আহ্বান করেন, ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে। ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জনসমুদ্র থেকে ঘোষনা করেন ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা।
১৬ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত ঢাকায় আওয়ামীলীগকে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রশ্নে মুজিব-ইয়াহিয়া-ভুট্টো বৈঠক হয়। ২৫ মার্চ আলোচনা ব্যর্থ হবার পর সন্ধ্যায় ইয়াহিয়া ঢাকা ত্যাগ করেন। এবং এদিন দিবাগত রাতে পূর্ববাংলার নিরীহ বাঙালীদের ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে। আক্রমণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা রাইফেল সদর দফতর ও রাজারবাগ পুলিশ হেডকোয়ার্টার। এছাড়া পূর্ববাংলার সকল মেধাবীদের ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়।
এমন বিভিষিকাময় রাতে একমাত্র কান্ডারী হিসাবে হাল ধরতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত ১২টা ২০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষনা করেনঃ

This may be my last message, from to day Bangladesh is Independent. I call upon the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have, to resist the army of occupation to the last.Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved.

বঙ্গবন্ধুর এই বার্তা তাৎক্ষনিকভাবে বিশেষ ব্যবস্থায় সারাদেশে পাঠানো হয়। সর্বস্তরের জনগণের পাশাপাশি চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও যশোর সেনানিবাসে বাঙালী জওয়ান ও অফিসাররা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনী রাত ১.৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধুকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা সেনানিবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। এর তিনদিন পর তাঁকে বন্দি অবস্থায় পাকিস্তান নিয়ে যাওয়া হয়।
২৬ মার্চ জে.ইয়াহিয়া এক ভাষণে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধুকে দেশদ্রোহী বলে আখ্যায়িত করে। এবং এদিনই চট্টগ্রাম স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা এম.এ.হান্নান বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন।
তারপরের অধ্যায় সকলেরই জানা। ৯ মাস যুদ্ধের পর আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন দেশ। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দেশ। অথচ এই মার্চ মাসেই স্বাধীনতার অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। দেশের অন্যতম মেধাবী ড. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল স্বাধীনতাবিরোধী শকুনের হাতে আক্রান্ত হন। এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। আমরাকি আরো একবার শপথ করতে পারি না, বঙ্গবন্ধুর সোনার দেশে জঙ্গিদের জায়গা হবে না। আমরা চাই একটি সুন্দর সবুজ শ্যামল সোনার বাংলা।

সম্পাদক

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৮৯৪ বার




Archives