লক্ষ্মীপুরে পাকা ধান লুটের শঙ্কায় কৃষক

প্রথম সময়: admin | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ২২. ডিসেম্বর. ২০১৭ | শুক্রবার

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন


আতোয়ার রহমান মনিরঃ লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের চরাঞ্চলে পাকা আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। লাঠিয়াল বাহিনীর নজর এখন কৃষকের পাকা আমন ধানে। চরাঞ্চলে শত শত কৃষক এখন পাকা ধান নিয়ে উদ্বিগ্ন। বর্তমানে লাঠিয়াল বাহিনীর তৎপরতায় চরাঞ্চল উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একই অবস্থা দেখা দিয়েছে রায়পুরের কানিবগার চরেও।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রোপা আমনে তাদের কমলনগর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ হাজার ৭ হেক্টর। কৃষকরা বলছেন, এবার তাদের রোপা আমন ধান ভালো হওয়ায় লাঠিয়াল বাহিনী তৎপর হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দক্ষিণ চরকাদিরা বটতলী এলাকায় ইতিমধ্যে কৃষকের পাকা ধান লুট করে নিয়েছে লাঠিয়াল বাহিনী। এ বাহিনীর লুটপাট বন্ধে প্রশাসনের সহযোগিত চেয়েছেন অনেকে। এ অবস্থায় পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

কমলনগরের চরকাদিরা বটতলী এলাকার কৃষক সাহাব উদ্দিন জানান, গত ১৪ ডিসেম্বর তার ৮ একর ৮০ শতাংশ জমির মধ্যে ২ একর জমির চাষকৃত রোপা আমন ধান কেটে নিয়েছে একই এলাকার লাঠিয়াল আবুল কালাম ওরফে কালু বাহিনীর সদস্যরা। এ ঘটনায় তিনি স্থানীয়ভাবে বিচার না পেয়ে ১৮ ডিসেম্বর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্র্রেট আদালতে মামলা করেও ক্ষেতের পাকা ধান রক্ষা করতে পারছেন না। এদিকে মামলার বিষয়টি তদন্ত করছেন কমলনগর থানার এএসআই মহসিন।

অপরদিকে একই এলাকার কৃষক সফিক, ইসমাইল ইউছুফ, আনোয়ার উল্লাহ্‌ ও সবির আহাম্মেদ জানান, তারা রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে জমিতে ফসল ফলান। এর পর তাদের পাকা ধান লুট করে নিয়ে যায় লাঠিয়াল বাহিনীপ্রধান কালু বাহিনীর সদস্যরা।

স্থানীয়রা জানান, চরাঞ্চলে আবুল কালাম কালু বাহিনীর বিস্তর প্রভাব। সবাই তাকে লাঠিয়াল নেতা কালু হিসেবে চেনে। তার বিরুদ্ধে কেউ ভয়ে এলাকায় কথা বলতে পারেন না। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আবুল কালামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তার মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।
কমলনগর থানার ওসি আকুল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, কমলনগর এলাকা অনেক বড়। কোথায় কী হয়েছে, তা থানায় অভিযোগ না হলে পুলিশের জানার কথা নয়। এখন পর্যন্ত ধান লুট বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। তবে ধান লুটের ঘটনায় আদালতের একটি মামলা থানায় তদন্তাধীন। এ ছাড়া নতুন করে কোনো ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) খন্দকার গোলাম শাহনেওয়াজ জানান, তিনি কয়েক দিন আগে কমলনগর থেকে ধান লুটপাট সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছেন। তবে তিনি ছুটিতে থাকায় বিষয়টি কী অবস্থায় রয়েছে তা বলতে পারছেন না।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৩৬ বার







Archives